খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী ওয়াইনথং এলাকার ওয়াই পয়েন্টে ফের মুখোমুখি হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুই সশস্ত্র গ্রুপ- ইউপিডিএফ (প্রসীত) ও জেএসএস (সন্তু)। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) ভোর ৫টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ১০০ থেকে ১৫০ রাউন্ড গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউপিডিএফ (প্রসীত) এর পানছড়ি অঞ্চলের গ্রুপ কমান্ডার নিকোলাস চাকমার নেতৃত্বে প্রায় ৫০-৫৫ জন সশস্ত্র সদস্য ভোররাতে ওয়াইনথং এলাকায় অবস্থান নেয়। অন্যদিকে জেএসএস (সন্তু) এর জয়দেব চাকমার নেতৃত্বে থাকা ৪০-৪৫ জনের একটি দল একই এলাকায় প্রবেশ করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাহাড়ের এই সব প্রত্যন্ত এলাকায় প্রতিনিয়তই এমন সশস্ত্র অবস্থান ও গুলিবিনিময়ের ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
পানছড়ি উপজেলায় ইউপিডিএফ (প্রসীত) ও জেএসএস (সন্তু) এর মধ্যে এই সংঘর্ষ নতুন নয়। বিগত কয়েক মাস ধরেই আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে। ইউপিডিএফ (প্রসীত) বর্তমানে পানছড়ির বিভিন্ন অঞ্চলে সক্রিয় থাকলেও জেএসএস (সন্তু) বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সরে গেছে দীঘিনালার নাড়াইছড়ি ও সাজেক এলাকার দিকে।
সূত্র বলছে, পানছড়ির দুদকছড়া, সীমানাপাড়া, রূপসেন পাড়া ও ভারতবর্ষ পাড়াসহ একাধিক গ্রামে আগে জেএসএস (সন্তু) আধিপত্য রাখলেও ইউপিডিএফ (প্রসীত) এর ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। এখন ইউপিডিএফ (প্রসীত) সেই এলাকাগুলো স্থায়ীভাবে দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে, যার জেরেই নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে বলে জানা গেছে।
-পার্বত্য সময়


