বান্দরবানের বাঘমারা বাজারে অতিরিক্ত ও জোরপূর্বক টোল আদায়ের অভিযোগে স্থানীয়দের মানববন্ধন ও লিখিত প্রতিবাদের পর বাজারটির ইজারা বাতিল করেছে জেলা পরিষদ। টোল আদায়ের এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জেলা যুবদলের শীর্ষস্থানীয় নেতার নাম জড়ানোয় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে পার্বত্য এলাকায় রাজনৈতিক দলের প্রভাব ও প্রশাসনিক শৈথিল্য নিয়ে।
সোমবার (৭ জুলাই) সকালে বাঘমারা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা, জুম চাষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বান্দরবান প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন। এরপর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাইয়ের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন তারা। অভিযোগ যাচাই করে দুপুরেই বাজার ফান্ড কর্তৃপক্ষ ইজারাটি বাতিলের ঘোষণা দেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ চৌধুরীর নেতৃত্বে একাধিক যুবদলকর্মী ব্যবসায়ী ও কৃষকদের কাছ থেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত টোল আদায় করছিলেন। এমনকি বাজার চত্বরের বাইরের ক্ষেত্রেও এই জোরপূর্বক আদায় চালানো হচ্ছিল। ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে সাধারণ মানুষ সরব হন।
এক ব্যবসায়ী বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী টোল দেওয়ার পরেও আবার হাতিয়ে নিচ্ছিলেন। প্রতিবাদ করলে হুমকি দিত। আমরা নিরুপায় হয়ে মানববন্ধনের পথ বেছে নিয়েছি।”
জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল মনসুর জানিয়েছেন, “প্রতিবাদ ও অভিযোগ পাওয়ার পর চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু হয়। এরপর ইজারা বাতিল করা হয়েছে।”
বাজার ফান্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উদ্ধেন্দু বিকাশ তঞ্চঙ্গ্যা জানান, গত মাসে বাজারটি দুই লাখ ৮৫ হাজার টাকায় রোয়াংছড়ির যুবদল নেতা মাওসেতুং তঞ্চঙ্গ্যার নামে ইজারা দেওয়া হয়। কিন্তু তার পরিবর্তে আরেক পক্ষ টোল আদায়ে সক্রিয় থাকায় সমস্যা তৈরি হয়।
তিনি বলেন, “মূল ইজারাদার ছিলেন মাওসেতুং। কিন্তু মাঠে অন্য কেউ টাকা তুলছিলেন। এতে চুক্তি লঙ্ঘিত হওয়ায় ইজারা বাতিল করতে হয়েছে।”
অভিযুক্ত যুবদল নেতা আরিফ চৌধুরী বলেন, “আমরা মূল ইজারাদারের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই কাজ করেছি। নিয়ম মেনেই টোল আদায় করেছি। রাজনৈতিক কারণে আমাদের নাম ঘোলা জলে মাছ ধরার মতো করে টানা হচ্ছে।”
তবে স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের জোরেই এ অনিয়ম দীর্ঘদিন সহ্য করে যেতে হয়েছে। অনেকেই বলেন, পাহাড়ে স্থানীয় জনগণের চেয়ে দলীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক শক্তি বেশি কার্যকর- এটাই এই ঘটনার মূল ভিত্তি।
-পার্বত্য সময়


