খাগড়াছড়িতে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের ফলে মাইনী নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এতে দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানির তোড়ে খাগড়াছড়ি-লংগদু সড়কের গুরুত্বপূর্ণ হেডকোয়ার্টার অংশ ডুবে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, পানিবন্দি হয়ে পড়ায় মেরুং বাজারের ছোট মেরুং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অন্তত ২৩টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় তৎপর রয়েছেন।
এদিকে, খাগড়াছড়ি পৌর এলাকার শালবন, কুমিল্লাটিলা ও সবুজবাগের মতো পাহাড়ঘেঁষা এলাকায় হাজারো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। প্রশাসনের তথ্যমতে, পাহাড় ধসের আশঙ্কায় পুরো জেলায় সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
সদর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলোর মাঝে সতর্কতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। আশ্রয় কেন্দ্রে সরে যেতে মাইকিং ও সরাসরি অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় চারটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করা অনেক পরিবার সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা লোকজনের মাঝে শুকনো খাবার ও পানি বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতেও জেলা প্রশাসন উদ্যোগ নিয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্ষণ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তাই দুর্যোগ মোকাবেলায় সমন্বিত প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি।

-পার্বত্য সময়