রাঙামাটির সীমান্তবর্তী চারটি উপজেলায় ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত জেলায় ৬৭৬ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন, যার ৮৩ শতাংশই বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি ও বরকল উপজেলার বাসিন্দা।
সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, যদিও আগের বছরের তুলনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে, তবুও দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে রোগটির প্রকোপ বেড়েই চলেছে। শুধু মে মাসেই জেলায় ৩০৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২০৮ জন জুরাছড়িতে।
প্রতি বছর এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বাড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্গম অবস্থান, সীমান্তবর্তী এলাকার সীমিত চিকিৎসা সুবিধা এবং সচেতনতার অভাব এ রোগ নিয়ন্ত্রণে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ভারতের পার্শ্ববর্তী এলাকায় রোগ নিয়ন্ত্রণে যথাযথ উদ্যোগ না থাকাও একটি বড় কারণ।
জেলার সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা গণমাধ্যমে জানান, বর্ষা মৌসুমে ম্যালেরিয়া বাড়ে বলে জুন-জুলাইতে রোগী আরও বাড়তে পারে। প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ বিষয়ে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, জুরাছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. অনন্যা চাকমা বলেন, আগে শুধুমাত্র বর্ষায় রোগটি দেখা যেত, এখন প্রায় সারা বছরই রোগী শনাক্ত হচ্ছে।
ব্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে রাঙামাটিতে প্রায় ৫ লাখ ৭৪ হাজার মশারি বিতরণ করা হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনে জুমচাষে কাজ করার সময় মশার কামড় এড়ানো সম্ভব হয় না, তখনই বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন তারা।
বিশেষ করে জুরাছড়ির মৈদং ও দুমদুম্যা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থায় আরও জোর না দিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

-পার্বত্য সময়