অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কৃতি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক উপদেষ্টাদের সাম্প্রতিক কার্যকলাপ এবং নীতিগত অবস্থান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি)। সংগঠনটির দাবি, ‘জাতি বৈচিত্র্য ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এবং ‘আদিবাসী’ শব্দের প্রসঙ্গে উপদেষ্টাদের অবস্থান দেশের সংবিধান ও সামাজিক ঐক্যের পরিপন্থী।
শনিবার খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে পিসিসিপি খাগড়াছড়ি জেলা শাখার নেতারা বলেন, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় ২০১০ সালের ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন’ সংশোধনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে ‘জাতি বৈচিত্র্য ইনস্টিটিউট’ করার প্রস্তাব গৃহীত হয়। একইসঙ্গে, পরিচালনা কমিটির ছয়টি সদস্যপদের সবগুলোতেই কেবল ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’র সদস্য মনোনয়নের বিধান সংযোজন করা হয়- যেখানে পূর্ববর্তী আইনে চারজনের সীমা নির্ধারিত ছিল।
সংগঠনটির জেলা সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, “এই ধরনের সংশোধনী সংবিধান পরিপন্থী এবং পক্ষপাতমূলক। একদিকে এটি সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত ‘বাংলাদেশী’ পরিচয়ের বিরুদ্ধে গিয়ে একক জাতি পরিচয়ের প্রস্তাবকে প্রতিষ্ঠা করতে চায়, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতিকাঠামোতে সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জনগোষ্ঠীকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বঞ্চিত করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংস্কৃতিবিষয়ক ওই বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা উপস্থিত ছিলেন এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি সেখানে বলেছেন: “আমরা আদিবাসী শব্দটি চাই কেবল পরিচয়ের জন্য।” অথচ সংবিধানের ৬(২) অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, “প্রজাতন্ত্রের নাগরিকগণ ‘বাংলাদেশী’ হিসেবে পরিচিত হবেন।” উপদেষ্টার এমন বক্তব্য ও অবস্থানকে তিনি সংবিধানের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা আরও দাবি করেন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বাজেটের প্রায় ৯০ শতাংশ বরাদ্দ একটি নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠীকে প্রাধান্য দিয়ে বিতরণ করা হয়েছে, যা প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোয় বৈষম্য সৃষ্টি করছে।
পিসিসিপির পক্ষ থেকে দাবিসমূহের মধ্যে ছিল- প্রস্তাবিত ‘জাতি বৈচিত্র্য ইনস্টিটিউট অধ্যাদেশ ২০২৫’ বাতিল করা, পরিচালনা কমিটিতে শুধুমাত্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ছয়জন সদস্য মনোনয়নের বিধান বাতিল, সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের ভূমিকা নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনা এবং মন্ত্রণালয়ের বাজেট বণ্টনে বিদ্যমান বৈষম্য খতিয়ে দেখে তা পুনর্বিন্যাস করা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মজিদ, পিসিসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন, জেলা সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, যুগ্ম সম্পাদক সাইদুর রহমান এবং সদর উপজেলা সভাপতি তরিকুল ইসলাম।
সংগঠনটি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানায়, “সাম্প্রতিক সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি পাহাড়ি-বাঙালির আশাবাদ থাকলেও, কিছু উপদেষ্টার পক্ষপাতমূলক ও বিভাজনমূলক অবস্থান সেই আশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।”
-পার্বত্য সময়


