পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমার বিতর্কিত ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতির দাবি ও ২০১০ সালের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন সংশোধনের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে পার্বত্য দুই জেলা রাঙামাটি ও খাগড়াছিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বিক্ষোভে উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমার অপসারণের দাবি জানানো হয়।
সোমবার (৩০ জুন) সকাল থেকে রাঙামাটি শহরের কাঠালতলী ও বনরুপা এবং খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বরে এসব কর্মসূচি পালিত হয়। রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) জেলা শাখা এবং খাগড়াছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ ও তাদের অঙ্গসংগঠনগুলো এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
খাগড়াছড়ির মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, “উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা একদিকে যেমন উন্নয়ন বরাদ্দে বৈষম্য করছেন, অন্যদিকে বিতর্কিত সাংস্কৃতিক অধ্যাদেশ প্রণয়নের মাধ্যমে পাহাড়কে বিভাজনের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। তিনি সংবিধানবিরোধী ‘আদিবাসী’ পরিচয়কে প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছেন, যা একদিকে রাষ্ট্রের নীতির বিরুদ্ধে, অন্যদিকে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করছে।”
বক্তারা আরও বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অধিকারকে সংবিধানসম্মত কাঠামোর মধ্যে সংরক্ষণ করতে হবে। সাংগঠনিক আধিপত্য বা বিদেশি চাপ মোকাবেলায় কোনো সম্প্রদায়ের একচেটিয়া সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে পাহাড়ে সহাবস্থানের পরিবেশ ধ্বংস করা যাবে না।
রাঙামাটির বনরুপা পুলিশ বক্সের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, “কোনো ব্যক্তি যদি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থেকে সংবিধানবিরোধী বক্তব্য দেন বা নীতি লঙ্ঘন করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সুপ্রদীপ চাকমা আদিবাসী দাবির আড়ালে পাহাড়ে সাংগঠনিক একনায়কত্ব ও জাতিগত উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।”
তারা বলেন, “পাহাড়ে সব সম্প্রদায়ের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহাবস্থান ও সমান উন্নয়নের জন্য রাষ্ট্রকে আরো সক্রিয় হতে হবে। কোনো জাতিগোষ্ঠীর পক্ষে পক্ষপাতমূলক আচরণ বা বিশেষ সুবিধা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার চক্রান্ত বরদাস্ত করা হবে না।”
সমাবেশ শেষে রাঙামাটিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয় যা কাঠালতলী থেকে শুরু হয়ে বনরুপা মোড় ঘুরে সমাবেশ স্থলে গিয়ে শেষ হয়।
উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা সম্প্রতি ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন ২০১০’ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছেন এবং প্রস্তাবিত নাম দিয়েছেন ‘জাতি বৈচিত্র্য সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান অধ্যাদেশ ২০২৫’। এই প্রস্তাব ইতোমধ্যে সমালোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন, কারণ এতে আদিবাসী স্বীকৃতি ও জাতিগত বিভাজনের উপাদান রয়েছে বলে মনে করছে বিরোধী পক্ষ।
-পার্বত্য সময়


