জাতীয় নারী ফুটবল দলের কৃতি খেলোয়াড় ঋতুপর্ণা চাকমা যখন দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে একের পর এক গোল করে সুনাম অর্জন করছেন, ঠিক তখনই তার পরিবার হাঁটছে চরম সংকটের পথ ধরে। ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত মা ভূজোপতি চাকমার চিকিৎসা করানো যাচ্ছে না অর্থাভাবে। আর সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো- ভাঙা ঘরের বদলে নতুন ঘর, বোনদের চাকরি, রাস্তা সংস্কার সবই এখনো বাস্তবায়নের অপেক্ষায়।
রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি গ্রাম মগাছড়ি ঋতুপর্ণার জন্মভূমি। জাতীয় দলের হয়ে খেলায় ব্যস্ত ঋতু, আর তার পেছনে থাকা পরিবারের আর্থিক অবস্থা নাজুক। তিন বোনের বিয়ে হয়ে গেছে, একমাত্র ভাই মারা গেছে কয়েক বছর আগে। পরিবারের ভরণপোষণ মূলত ঋতুর ফুটবলের আয়ে চলে।
২০১৫ সালে ক্যানসারে মারা যান ঋতুর বাবা বরজ বাঁশি চাকমা। বাবার অনুপ্রেরণায়ই ফুটবল মাঠে নামা শুরু করেন ঋতুপর্ণা। সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়ে আসার পরও পরিবারিক অবস্থার তেমন পরিবর্তন আসেনি।
ঋতুপর্ণার বড় বোন পাম্পী চাকমা বলেন, “মা ব্রেস্ট ক্যান্সারে ভুগছেন। আমরা উন্নত চিকিৎসা দিতে পারছি না। ঋতু দেশের জন্য খেলছে, আমরা চাই দেশের মানুষ এবং সরকার এই সংকটে পাশে দাঁড়াক। সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ হোক।”
অসুস্থ শরীর নিয়েও জাতীয় দলের খেলা দেখেন ঋতুপর্ণার মা ভূজোপতি চাকমা। তিনি বলেন, “আমার মেয়ে দেশের জন্য খেলে, ওকে টিভিতে দেখি, গর্ব হয়। কিন্তু এখন আমার শরীর ভালো না। জানি না কতদিন আছি।”
ঋতুপর্ণাসহ মনিকা চাকমা, আনাই মঘিনি, রুপনা চাকমাদের গড়ে তোলা রাঙামাটির প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক বীর সেন চাকমা বলেন, “ঋতুপর্ণার পরিবার খুব কষ্টে আছে। তার মায়ের চিকিৎসা ও একটি সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করা জরুরি। সরকার যেন দ্রুত তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসে।”
বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে পড়ছেন ঋতুপর্ণা। ফুটবল আর পড়ালেখা দুই-ই চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি এএফসি উইমেন্স এশিয়ান কাপে মিয়ানমারের বিপক্ষে দুটি গোল ও তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে একটি গোল করে দলকে গুরুত্বপূর্ণ জয় এনে দেন তিনি।
কিন্তু জাতীয় এই গৌরবময় অর্জনের পেছনে রয়েছে উপেক্ষিত বাস্তবতা- দারিদ্র্য, চিকিৎসার অনিশ্চয়তা, অবহেলা আর প্রতিশ্রুতির পাহাড়।
-পার্বত্য সময়


