খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের নতুন অস্থায়ী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পরিষদের সদস্য শেফালিকা ত্রিপুরা। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব তাসলিমা বেগম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠায় তাকে সকল কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন ১৯৮৯-এর ধারা ১৪ অনুযায়ী শেফালিকা ত্রিপুরাকে অস্থায়ী চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এর আগে সোমবার (৭ জুলাই) মন্ত্রণালয়ের পৃথক এক আদেশে চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরাকে পরিষদের সকল কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদেশে বলা হয়, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের ১৪ জন সদস্য তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে- পরিষদের সদস্যদের অবমূল্যায়ন, খারাপ আচরণ, বিভাগীয় প্রধান ও কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ, স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বজনপ্রীতি, শিক্ষক বদলি বাণিজ্য, ঠিকাদারদের বিল আটকে রেখে ঘুষ বাণিজ্য, চরম মাত্রার প্রশাসনিক দুর্নীতি। 
এই অভিযোগগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন। অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জিরুনা ত্রিপুরাকে পরিষদের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ নভেম্বর জিরুনা ত্রিপুরাকে চেয়ারম্যান করে ১৫ সদস্যের অন্তবর্তীকালীন পরিষদ গঠন করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো পাহাড়ের স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে। অনেকেই বলছেন, এ ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার বহিঃপ্রকাশ। তাছাড়া তার আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠতা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।
এদিকে শেফালিকা ত্রিপুরার দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে পার্বত্য এলাকায় নতুন করে ক্ষমতার ভারসাম্য ও রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের গুঞ্জন শুরু হয়েছে। স্থানীয়ভাবে যেসব উন্নয়ন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছিল, নতুন নেতৃত্বের অধীনে সেগুলোর গতি ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন অনেকে। তবে চূড়ান্ত স্থায়ী চেয়ারম্যান নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

-পার্বত্য সময়