পার্বত্য চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন প্রকল্পে একতরফাভাবে চাকমা সম্প্রদায়ের আধিপত্য, ত্রিপুরা ও মারমা জনগোষ্ঠীর প্রতি অব্যাহত বৈষম্য এবং প্রকল্প ও খাদ্যশস্য বরাদ্দে দলীয়করণ ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে বিক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে মারমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়।
রোববার (২৯ জুন) সকালে খাগড়াছড়ির শাপলা চত্বরে ‘ত্রিপুরা ও মারমা জনগোষ্ঠী সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী যুগ্ম সচিব কংকন চাকমার অপসারণ দাবি করা হয়। একইসাথে দাবিগুলো না মানলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
“সুপ্রদীপ চাকমা শেখ হাসিনার সুবিধাভোগী দোসর”
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হলেও সুপ্রদীপ চাকমা আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকেই পার্বত্য অঞ্চলে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি রাষ্ট্রদূত, পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দীর্ঘদিন ধরে শুধুমাত্র চাকমা সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষা করে যাচ্ছেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, সুপ্রদীপ ও কংকন চাকমার নির্দেশেই চলতি জুন মাসে খাগড়াছড়ির আওয়ামী লীগপন্থী নেতা সাজাই মারমা, জ্ঞান দত্ত ত্রিপুরা ও তপন বিকাশ ত্রিপুরার নামে ৪২ মেট্রিক টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অথচ মারমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের প্রকৃত দরিদ্র জনগণ এসব বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে।
“৯০ শতাংশ বরাদ্দ শুধু চাকমাদের জন্য”
বক্তারা অভিযোগ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বহু জাতিগোষ্ঠী থাকা সত্ত্বেও, বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামো, উন্নয়ন প্রকল্প এবং বরাদ্দে ৯০ শতাংশ সুবিধা শুধুমাত্র চাকমা সম্প্রদায়ের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এ পরিস্থিতিকে তারা ‘সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী’ বলে আখ্যা দেন।
মারমা যুব নেতা ইঞ্জিনিয়ার ক্যরী মগ বলেন, “পার্বত্য অঞ্চলে জাতিগত বিভাজন তৈরির ষড়যন্ত্র করছে একটি চক্র। চাকমা সম্প্রদায়ের নামে সকল বরাদ্দ একচেটিয়া কুক্ষিগত করার চেষ্টার বিরুদ্ধে এখনই না দাঁড়ালে মারমা ও ত্রিপুরা জাতির অস্তিত্ব বিপন্ন হবে।”
বক্তব্য দেন মারমা ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রুমেল মারমা, তরুণ নেতা উজ্জল মারমা, নারী নেত্রী মউক্রাচিং মারমা, ত্রিপুরা প্রতিনিধি সরোজ কান্তি ত্রিপুরা, এবং অংগ্য মারমাসহ আরও অনেকে।
স্মারকলিপি ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
বিক্ষোভ শেষে একটি বিশাল মিছিল খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় এবং উপদেষ্টার অপসারণ ও প্রতিনিধিত্বে সমতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হাসান মারুফ-এর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে। তিনি বলেন, বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
“অবস্থান না বদলালে সড়ক অবরোধ”
বিক্ষোভকারীরা সরকারকে ৭ দিনের সময়সীমা দিয়ে জানিয়েছেন, এর মধ্যে সুপ্রদীপ চাকমা ও কংকন চাকমাকে অপসারণ, বরাদ্দ ও প্রকল্পে সমান সুযোগ এবং প্রতিনিধিত্বে বৈষম্য নিরসনের পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সড়ক অবরোধ, প্রশাসনিক ভবন ঘেরাওসহ আরও কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
-পার্বত্য সময়


