পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রশাসনিক কাঠামোতে ত্রিপুরা ও মারমা জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব বঞ্চিত রাখা, বরাদ্দে বৈষম্য এবং স্বার্থান্বেষী মহলের পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও যুগ্ম সচিবের অপসারণ দাবি করেছে ‘ত্রিপুরা-মারমা সচেতন সমাজ’। দাবি না মানলে তিন জেলায় লাগাতার সড়ক ও নৌপথ অবরোধের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৭ জুলাই) খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের পক্ষে রুমেল মারমা। এতে 
রুমেল মারমা বলেন, “সরকারি প্রকল্প, অর্থ ও খাদ্যশস্যের বরাদ্দে এমন বৈষম্য চলছে, যা আগের কোনো সরকারের আমলেও দেখা যায়নি। সুপরিকল্পিতভাবে মারমা ও ত্রিপুরা জাতিগোষ্ঠীকে সিদ্ধান্তগ্রহণ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।”
তাদের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি উপস্থাপন করেছে:
সুপ্রদীপ চাকমাকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা পদ থেকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।
কংকন চাকমাকে যুগ্ম সচিব পদ থেকে প্রত্যাহার করতে হবে।
পার্বত্য তিন জেলার প্রকল্প ও বরাদ্দে ন্যায্যতা ও সংবেদনশীলতা বজায় রেখে বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে।
আঞ্চলিক পরিষদ, জেলা পরিষদ ও টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান পদে মারমা ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিকে নিয়োগ দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২৯ জুন খাগড়াছড়ির মুক্তমঞ্চে এক বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে সাত দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর না পাওয়ায় তারা পুনরায় কর্মসূচি ঘোষণার পথে হাঁটছে।
তারা বলেন, সরকার যদি আগামী ৭ দিনের মধ্যে আমাদের যৌক্তিক দাবি না মেনে চলে, তাহলে পার্বত্য তিন জেলায় টানা সড়ক ও নৌপথ অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সূর্য কিরণ ত্রিপুরা (কার্বারী), প্রশান্ত ত্রিপুরা, ম্রাচাই মারমা, উক্রাচিং মারমা, চিংলামং মারমা, মিনুচিং মারমা, সিমা ত্রিপুরা, তনয় ত্রিপুরা প্রমুখ।
তারা অভিযোগ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম এখন কিছু সুবিধাভোগী ও বিশেষ একটি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। ত্রিপুরা ও মারমা জাতিগোষ্ঠীর মানুষের দাবি-দাওয়া উপেক্ষিতই থেকে যাচ্ছে। এই বৈষম্য মেনে নেওয়া হবে না।

-পার্বত্য সময়