চলমান সংঘাত ও পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে বেসামরিক জনগণের সুরক্ষায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, শান্তিরক্ষীরা বেসামরিক জনগণকে সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ দায়িত্ব সফলভাবে পালনে তাদের প্রয়োজন শক্তিশালী রাজনৈতিক সমর্থন, পর্যাপ্ত সম্পদ এবং আধুনিক সক্ষমতা।

সোমবার (১৮ মে) জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত ‘ডায়লগ টু ডি-এস্কেলেট: হাউ ইউনাইটেড নেশনস মিলিটারি পিসকিপার্স প্রটেক্ট সিভিলিয়ানস থ্রু ডায়লগ অ্যান্ড এনগেজমেন্ট’ শীর্ষক এক সাইড ইভেন্টে তিনি এ কথা বলেন। বিষয়টি মঙ্গলবার (১৯ মে) ঢাকায় প্রাপ্ত এক বার্তায় জানানো হয়।

রাষ্ট্রদূত নোমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, এবং অর্থায়ন সংকটকে শান্তিরক্ষা মিশনের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক যুদ্ধ প্রযুক্তির মতো উদীয়মান হুমকি মোকাবিলায় শান্তিরক্ষীদের আরও দক্ষ ও আধুনিকভাবে সজ্জিত করা প্রয়োজন।

তিনি গাজা ও রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ টেনে বেসামরিক হতাহতের ক্রমবর্ধমান ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং মানবিক সহায়তার পথ অব্যাহত রাখা, শান্তিরক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা ও সংঘাত নিরসনে সংলাপভিত্তিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান।

প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন জাতিসংঘ শান্তি কার্যক্রম বিভাগের লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেরিল পিয়ার্স, মিনুস্কা-এর লেফটেন্যান্ট জেনারেল হামফ্রি নিওনে এবং ইন্দোনেশিয়ার লেফটেন্যান্ট কর্নেল হার্লি সিনাগা।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, ঘানা, ইন্দোনেশিয়া, উরুগুয়ে ও জাম্বিয়া যৌথভাবে এ আয়োজন করে।

আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন স্টিমসন সেন্টারের লিসা শারল্যান্ড। এতে জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিক ও শান্তিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।