ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুরিয়া কান্তের একটি মন্তব্যকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক ও ব্যঙ্গের সৃষ্টি হয়েছে। একটি প্রকাশ্য আদালত শুনানিতে তিনি বলেন, ‘পরজীবীরা ব্যবস্থার ওপর আক্রমণ করছে’ এবং কিছু তরুণকে ‘তেলাপোকা’ বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘এমন তরুণ আছে যারা তেলাপোকার মতো—যাদের কোনো চাকরি নেই বা পেশাগত কোনো স্থান নেই। তাদের কেউ মিডিয়ায় যায়, কেউ সামাজিক মাধ্যমে, কেউ আরটিআই বা অন্যান্য অ্যাক্টিভিস্ট হয়ে সবাইকে আক্রমণ করে।’
পরে তিনি অবশ্য ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, তার মন্তব্যটি কিছু ভুয়া ডিগ্রিধারী ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে ছিল, ভারতের সব তরুণদের নয়। তিনি তরুণদের ‘উন্নত ভারতের ভিত্তি’ বলেও অভিহিত করেন।
তবুও এই মন্তব্য ঘিরে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে জেনারেশন জেড তরুণদের মধ্যে। তারা বর্তমানে বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি এবং রাজনৈতিক-সামাজিক বিভাজনের মতো সমস্যার মধ্যে রয়েছে।
এই ক্ষোভের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করা অভিজিৎ দীপক সামাজিক মাধ্যমে একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন শুরু করেন। তিনি এর নাম দেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’—যা ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয়া জনতা পার্টির নামের প্রায় কাছাকাছি।

তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় থাকা লোকেরা নাগরিকদের তেলাপোকা ও পরজীবী মনে করেন। তাদের জানা উচিত, তেলাপোকা নোংরা পরিবেশেই বংশবৃদ্ধি করে—ভারত আজ ঠিক সেই অবস্থাতেই আছে।’
দীপকে একটি ওয়েবসাইট ও সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট চালু করেন এই ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলনের জন্য, যা দ্রুত হাজার হাজার মানুষের সমর্থন ও অংশগ্রহণ পাচ্ছে।


