মিয়ানমারের নতুন সামরিক-সমর্থিত সরকার জোরপূর্বক সেনা নিয়োগ কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে। দেশটির প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ (১৩ মিলিয়ন) নাগরিককে সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের লক্ষ্যে তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জেনারেল তুন আং সম্প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন, আঞ্চলিক প্রশাসনগুলোকে অভিবাসন দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্ভাব্য নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকা তৈরির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। এই ঘোষণা তিনি নেপিডোতে কেন্দ্রীয় নিয়োগ সংস্থার বৈঠকে দেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সেনা অভ্যুত্থান নেতা মিন অং হ্লাইং নিয়োগ আইন কার্যকর করার পর থেকে দেশজুড়ে জোরপূর্বক নিয়োগ অভিযান শুরু হয়। এরপর থেকে শহর, বাস ও বাড়ি থেকে তরুণদের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী পুরুষ এবং ১৮ থেকে ২৭ বছর বয়সী নারীদের বাধ্যতামূলকভাবে দুই বছরের সামরিক প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, অনেক ক্ষেত্রে শিশু ও নির্ধারিত বয়সের বাইরের মানুষকেও ধরে নেওয়া হচ্ছে।

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, অনেক নিয়োগপ্রাপ্তকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। একইসঙ্গে অনেকে পালিয়ে যাচ্ছে বা দায়িত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।

সরকার দাবি করছে, নির্দিষ্ট সংখ্যক নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রশিক্ষণ শেষে বাড়ি পাঠানো হবে। তবে গবেষণা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ব্যাচের অনেকেই এখনো ফিরে আসেনি এবং অনেকে নিখোঁজ বা নিহত হয়েছে।

মানবাধিকার বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নিয়োগ কার্যক্রম দেশটিতে ভয় ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি করেছে এবং তরুণদের মধ্যে ব্যাপক দেশত্যাগ প্রবণতা দেখা দিয়েছে।

সূত্র: দ্য ইরাওয়াডি