যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বেইজিং বৈঠকের পর চীন প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে কমপক্ষে ১৭ বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

রোববার (১৭ মে) প্রকাশিত এক তথ্যপত্রে বলা হয়, এই চুক্তি ২০২৮ সাল পর্যন্ত চলবে। ২০২৬ সালের লক্ষ্যমাত্রা চলতি বছরের বাকি সময় অনুযায়ী অনুপাতে বাস্তবায়ন করা হবে।

হোয়াইট হাউস আরও জানায়, এর বাইরে চীন অন্তত ৮ কোটি ৭০ লাখ মেট্রিক টন মার্কিন সয়াবিন কেনার আগের প্রতিশ্রুতিও বজায় রাখবে। এই প্রতিশ্রুতি গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্রাম্প–শি বৈঠকে দেওয়া হয়েছিল।

চুক্তির অংশ হিসেবে চীন আবারও যুক্তরাষ্ট্রের গরুর মাংস আমদানির বাজার খুলে দেবে। এর জন্য ৪০০টির বেশি উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের মেয়াদোত্তীর্ণ অনুমোদন নবায়ন করা হবে। পাশাপাশি যেসব মার্কিন অঙ্গরাজ্যকে কৃষি বিভাগ বার্ড ফ্লু–মুক্ত ঘোষণা করেছে, সেসব অঞ্চল থেকে মুরগির মাংস আমদানিও আবার শুরু করবে চীন।

দুই নেতা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন দুটি সংস্থা গঠনের বিষয়েও একমত হয়েছেন। এগুলো হলো ‘যুক্তরাষ্ট্র–চীন বাণিজ্য বোর্ড’ এবং ‘যুক্তরাষ্ট্র–চীন বিনিয়োগ বোর্ড’।

তবে এখন পর্যন্ত চীন আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা নিশ্চিত করেনি বা কোনো মন্তব্য দেয়নি। ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

দুই দিনের এই শীর্ষ বৈঠকে জাঁকজমক ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ থাকলেও বড় কোনো নির্দিষ্ট চুক্তি হয়নি বলে বিশ্লেষকদের মত। বৈঠকে মূলত অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হয়। তবে তাইওয়ান ইস্যু এবং ইরান–ইসরায়েল উত্তেজনার মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো অনেকটাই এড়িয়ে যাওয়া হয়।

বৈঠক শেষে হোয়াইট হাউস জানায়, দুই দেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে এবং হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর একমত হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না।

অন্যদিকে বেইজিংয়ের বিবৃতিতে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়ে সরাসরি কিছু বলা হয়নি। তারা সব পক্ষের উদ্বেগ বিবেচনায় নিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

এছাড়া তাইওয়ান প্রসঙ্গ কোনো পক্ষের বিবৃতিতেই উল্লেখ করা হয়নি। এর আগে শি জিনপিং সতর্ক করে বলেছিলেন, তাইওয়ান ইস্যু ‘সঠিকভাবে সামলানো না হলে’ দুই পরাশক্তির মধ্যে সংঘাত তৈরি হতে পারে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক হিনরিখ ফাউন্ডেশনের বাণিজ্যনীতি বিশেষজ্ঞ ডেবোরা এলমস বলেন, চীনের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়া এসব ঘোষণাকে সতর্কভাবে দেখা উচিত।

তার মতে, বছরে অতিরিক্ত ১৭ বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য ক্রয় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক হলেও, ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের মার্কিন অর্থনীতির তুলনায় এর প্রভাব খুবই সীমিত।

দীর্ঘ সময় ধরে চলা পাল্টাপাল্টি বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্য আগের তুলনায় কমে গেছে। ২০২২ সালে দুই দেশের পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৯০ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছর নেমে এসেছে প্রায় ৪১৫ বিলিয়ন ডলারে।

সূত্র: আল-জাজিরা