মিয়ানমারের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত একটি গ্রামে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৫৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অনেক মানুষ আহত হয়েছেন। সোমবার (১ জুন) বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

বিবিসি জানায়, রোববার দেশটির শান রাজ্যের নামখাম টাউনশিপের কাউং তাত গ্রামে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এলাকাটি চীনের সীমান্তের কাছে অবস্থিত এবং বর্তমানে বিদ্রোহী গোষ্ঠী তাআং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির (টিএনএলএ) নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২৫ জন নারী ও ৩০ জন পুরুষ রয়েছেন। তবে বিভিন্ন সূত্রে হতাহতের সংখ্যা কিছুটা ভিন্নভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিস্ফোরণের পর গ্রামটির আকাশে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। টিএনএলএ জানিয়েছে, খনি ও পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক থেকে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানায়, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে এ ‘দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণ’ ঘটে। এতে বহু মানুষ নিহত ও আহত হওয়ার পাশাপাশি ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে বিস্ফোরণস্থলে বিশাল গর্ত, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া ভবন এবং পুড়ে যাওয়া গাছপালা দেখা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিস্ফোরণের পর এলাকায় আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই প্রথমে এটিকে বিমান হামলা বলে মনে করেছিলেন।

স্থানীয়দের দাবি, নিহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে এবং বিস্ফোরণে শত শত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় পুরো একটি আবাসিক এলাকা এর প্রভাবের মধ্যে পড়েছে।

এক বাসিন্দা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকার কারণেই তিনি প্রাণে বেঁচে গেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি শোবার ঘরে বসে নুডলস খাচ্ছিলাম ও ফোন দেখছিলাম। রান্নাঘরে থাকলে হয়তো আজ বেঁচে থাকতাম না।’

তিনি আরও জানান, বিস্ফোরণের পর চারদিকে মানুষের কান্না ও স্বজনদের খোঁজার আর্তনাদ শোনা যাচ্ছিল। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছিল পৃথিবীর শেষ দিন এসে গেছে।’

বিস্ফোরক মজুদের স্থাপনা কেন আবাসিক এলাকার এত কাছে পরিচালিত হচ্ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও জবাবদিহি দাবি করেছেন তারা।

টিএনএলএ মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াইরত অন্যতম শক্তিশালী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী। বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী তাদের কার্যক্রম পরিচালনার অর্থ জোগাতে খনিজ সম্পদ উত্তোলনের ওপর নির্ভর করে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে এসব এলাকায় খনি দুর্ঘটনা ও বিস্ফোরণের ঘটনা প্রায়ই ঘটে।