বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস আজ ১১ জুলাই। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, প্রজনন স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, নারী অধিকার, তরুণদের ক্ষমতায়ন এবং টেকসই উন্নয়ন সম্পর্কে বৈশ্বিক সচেতনতা বাড়াতে প্রতিবছরের মতো এবারও দিবসটি পালিত হচ্ছে। ২০২৬ সালের এই আয়োজন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন বিশ্বের জনসংখ্যা প্রায় ৮.৩ বিলিয়নের কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং বৈশ্বিক জনমিতিক বাস্তবতায় দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে।
এবারের প্রতিপাদ্য "তরুণদের আশা ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন—আজ এবং ভবিষ্যতের জন্য"। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) বলছে, ভবিষ্যতের জনসংখ্যা নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় তরুণদের চাহিদা, সিদ্ধান্ত এবং অভিজ্ঞতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
ইতিহাস: ‘পাঁচ বিলিয়ন দিবস’ থেকে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের সূচনা ১৯৮৭ সালের ১১ জুলাইয়ের একটি ঐতিহাসিক ঘটনার মাধ্যমে। ওই দিন বিশ্বের জনসংখ্যা ৫ বিলিয়নে পৌঁছায়, যা "পাঁচ বিলিয়ন দিবস" নামে পরিচিতি পায়। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে বৈশ্বিক সচেতনতা তৈরির প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে ১৯৮৯ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালনের উদ্যোগ নেয়। এরপর থেকে প্রতি বছর ১১ জুলাই দিবসটি পালন করা হচ্ছে। বর্তমানে এর বৈশ্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)।
বিশ্বের জনসংখ্যা কোথায় দাঁড়িয়ে
বিশ্ব জনসংখ্যার বর্তমান হিসাব ও ভবিষ্যৎ প্রবণতা নির্ধারণে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জনমিতিক তথ্যভান্ডার ও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্সাস ব্যুরোর তথ্য ব্যবহার করা হয়। বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা প্রায় ৮.২ থেকে ৮.৩ বিলিয়নে পৌঁছাবে। প্রতি বছর প্রায় ৬ কোটি ৮৮ লাখের বেশি মানুষ যুক্ত হলেও জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে বর্তমানে প্রায় ০.৮৩ শতাংশে নেমে এসেছে।
পূর্বাভাস বলছে, আগামী এক দশকের মধ্যে বিশ্বের জনসংখ্যা ৯ বিলিয়নের ঘরে পৌঁছাতে পারে। এরপর ২০৬০ সালের দিকে তা ১০ বিলিয়ন এবং শতাব্দীর শেষভাগে প্রায় ১০.৬ বিলিয়নে পৌঁছে ধীরে ধীরে স্থিতিশীল বা হ্রাসের দিকে যেতে পারে।
জনসংখ্যার নতুন বাস্তবতা
আজকের বিশ্বে জনসংখ্যা নিয়ে এক ধরনের বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। একদিকে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও ইউরোপের অনেক দেশে জন্মহার প্রতিস্থাপন স্তরের নিচে নেমে যাওয়ায় জনসংখ্যা সংকুচিত হচ্ছে এবং প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ছে। অন্যদিকে সাব-সাহারা আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে তুলনামূলক উচ্চ জন্মহারের কারণে জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক গড় উর্বরতার হার বর্তমানে প্রায় ২.২৫, যা জনসংখ্যা প্রতিস্থাপনের হার ২.১-এর কাছাকাছি।
সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারত
২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারত। দেশটির জনসংখ্যা ১৪৭ কোটির বেশি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীন। এরপর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তান। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মানুষ বসবাস করে এশিয়ায়, যেখানে প্রায় ৪৮৫ কোটি মানুষের আবাস।
বাংলাদেশের সামনে জনসংখ্যার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
বিশ্বে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধারা এখনও অব্যাহত। বর্তমানে প্রতি ১০ থেকে ১৫ বছর পরপর বিশ্বের জনসংখ্যায় প্রায় ১০০ কোটি মানুষ যুক্ত হচ্ছে। ১৯৮৭ সালে বিশ্ব জনসংখ্যা প্রথমবারের মতো ৫০০ কোটিতে পৌঁছানোর পর থেকেই এ প্রবৃদ্ধি নতুন মাত্রা পায়। এরপর ১৯৯৭ সালে তা ৬০০ কোটি, ২০১১ সালে ৭০০ কোটি এবং ২০২১ সালে প্রায় ৭৯০ কোটিতে পৌঁছে। জনমিতিবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা প্রায় ৮৫০ কোটি, ২০৫০ সালে ৯৭০ কোটি এবং শতাব্দীর শেষে প্রায় ১ হাজার ৯০ কোটিতে পৌঁছাতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রমবর্ধমান এই জনসংখ্যা বিশ্বজুড়ে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তাই জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার বিকল্প নেই।
বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধির বড় একটি অংশ ঘটছে মাত্র নয়টি দেশে—ভারত, নাইজেরিয়া, কঙ্গো, পাকিস্তান, ইথিওপিয়া, তানজানিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, উগান্ডা ও ইন্দোনেশিয়ায়। ভারত বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ এবং নাইজেরিয়ায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে দ্রুত। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে মানুষের গড় আয়ুও বাড়ছে। ২০১০-২০১৫ সময়ে যেখানে বৈশ্বিক গড় আয়ু ছিল ৬৭ থেকে ৭১ বছর, সেখানে ২০৪৫-২০৫০ সালে তা ৭৭ বছর এবং শতাব্দীর শেষভাগে প্রায় ৮৩ বছরে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই বৈশ্বিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য। বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়া সত্ত্বেও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, পরিবার পরিকল্পনা এবং মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যে দেশটি প্রশংসনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। বর্তমানে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রায় ১.৩৭ শতাংশ, পরিবারপ্রতি গড় সন্তানের সংখ্যা ২.০৪, পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহারের হার ৬৩.৯ শতাংশ এবং অপূর্ণ চাহিদা কমে এসেছে ১২ শতাংশে। একই সঙ্গে মাতৃমৃত্যু, নবজাতক ও শিশুমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং মানুষের গড় আয়ু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২.৮ বছরে।
বাংলাদেশের আরেকটি বড় শক্তি হলো কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৬৬ শতাংশ মানুষ কর্মক্ষম বয়সের, যার সংখ্যা প্রায় ১০ কোটি ৫৬ লাখ। এই জনমিতিক সুবিধাকে কাজে লাগাতে পারলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হতে পারে। তবে এজন্য প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ নিশ্চিত করা।
দেশের এই অর্জন ধরে রাখতে তৃণমূল পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। প্রায় ৫৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী ঘরে ঘরে গিয়ে পরিবার পরিকল্পনা, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, পুষ্টি, কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবা, মানসিক স্বাস্থ্য, অটিজম বিষয়ে পরামর্শ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, জনসংখ্যাকে বোঝা নয়, দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে পারলেই বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।
তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন জরিপ
সম্প্রতি বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে ইউএনএফপিএ বিশ্বের ৭৩টি দেশের ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সী ১ লাখ ৮ হাজারের বেশি তরুণ-তরুণীর মতামতের ভিত্তিতে একটি বৈশ্বিক জরিপ প্রকাশ করছে। "জীবন, পছন্দ ও ভবিষ্যৎ: তরুণরা কী চায় এবং সম্পর্ক ও পিতৃত্ব-মাতৃত্ব নিয়ে তাদের সিদ্ধান্তকে কী প্রভাবিত করে" শীর্ষক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, অনেক তরুণ পরিবার গঠন করতে চাইলেও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, আবাসন সংকট, সন্তান লালন-পালনের ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে।
উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আবার শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বাল্যবিবাহ ও সামাজিক বাধা তরুণীদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে।
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের মূল উদ্দেশ্য
দিবসটির মাধ্যমে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়। একই সঙ্গে পরিবার পরিকল্পনা, নিরাপদ মাতৃস্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা, নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার, লিঙ্গসমতা, তরুণদের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন, দায়িত্বশীল পিতৃত্ব-মাতৃত্ব এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া কিশোর-কিশোরীদের সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা, সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে কার্যকর জনসংখ্যা নীতি গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির বড় চ্যালেঞ্জ
বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধি শুধু মানুষের সংখ্যা বাড়ার বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ ও অর্থনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার কারণে বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য, জ্বালানি ও কৃষিজমির চাহিদা বাড়ছে। অতিরিক্ত সম্পদ ব্যবহারের ফলে বন উজাড়, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, খরা, বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষি উৎপাদনকে প্রভাবিত করায় ভবিষ্যতের খাদ্য নিরাপত্তা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।
নগরায়ণ, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের চাপ
বিশ্বের প্রায় ৫৮ শতাংশ মানুষ বর্তমানে শহরে বসবাস করছে। শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের আশায় শহরমুখী মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে আবাসন সংকট, যানজট, দূষণ, বস্তি বৃদ্ধি এবং নাগরিক সেবার ওপর চাপ বাড়ছে।
অন্যদিকে বাড়তি জনসংখ্যার জন্য আরও হাসপাতাল, চিকিৎসক, বিদ্যালয়, শিক্ষক এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির প্রয়োজন হচ্ছে। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান না থাকায় অনেক দেশ বেকারত্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে।
অভিবাসন ও জলবায়ুর নতুন বাস্তবতা
জলবায়ু পরিবর্তন, যুদ্ধ, সংঘাত ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বিশ্বজুড়ে অভিবাসন বেড়েছে। অনেক উন্নত দেশ কমে যাওয়া কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ঘাটতি পূরণে অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। তবে অভিবাসনকে ঘিরে মানবাধিকার, সামাজিক সংহতি এবং রাজনৈতিক বিতর্কও সমানভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
জনসংখ্যা শুধু সংখ্যা নয়
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস মনে করিয়ে দেয়, জনসংখ্যা কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি মানুষের অধিকার, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই জনসংখ্যাকে সমস্যা হিসেবে নয়, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে মানবসম্পদে রূপান্তরের সুযোগ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মানসম্মত শিক্ষা, সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়ন এবং কার্যকর জনসংখ্যা নীতির মাধ্যমে জনমিতিক পরিবর্তনকে টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির শক্তিতে রূপ দেওয়া সম্ভব।
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস ২০২৬-এর বার্তাও তাই—প্রতিটি মানুষের অধিকার নিশ্চিত করে, তরুণদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এবং টেকসই উন্নয়নের পথ ধরে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।


