শ্রীলঙ্কার নেগোম্বো প্রধান কারাগারে বন্দিদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ২৬ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন কারারক্ষী ছিলেন। গত পাঁচ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে দেশটির কোনো কারাগারে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের ঘটনা।
সোমবার (৬ জুলাই) পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, রাজধানী কলম্বোর উত্তরে অবস্থিত নেগোম্বো কারাগারে রোববার (৫ জুলাই) রাতে দুটি মাদক চক্রের বন্দিদের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। কয়েক হাজার বন্দী থাকা কারাগারটিতে রাতভর সহিংসতা চলতে থাকে। আহতদের দ্রুত নেগোম্বো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে নারী ওয়ার্ডের কয়েকজন বন্দি কারাগারের ছাদে উঠে মুক্তির দাবি জানান। এ সময় ছাদের একটি অংশ ধসে পড়ে কয়েকজন নারী বন্দি আহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কমান্ডো মোতায়েন করা হলেও তাদের কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করানো হয়নি। সংঘর্ষ চলাকালে কিছু বন্দি কারারক্ষীদের কাছ থেকে কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দারাও কারাগার এলাকা থেকে গোলাগুলির শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে শ্রীলঙ্কা বিমানবাহিনী একটি হেলিকপ্টার ও ড্রোন মোতায়েন করে।
ঘটনার তদন্তে অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সরকার।
কারা বিভাগের মুখপাত্র চামিন্দা গাজানায়াকে জানান, এ ঘটনায় কোনো বিদেশি বন্দি হতাহত হননি। মাদক পাচারের অভিযোগে আটক এক ব্রিটিশ নাগরিকও নিরাপদ রয়েছেন।
সোমবার কারাগারের বাইরে বন্দিদের স্বজনদের ভিড় দেখা যায়। এদিকে সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কার কারাগারগুলোতে বর্তমানে ৪১ হাজার ২৫০ জন বন্দি রয়েছেন, যা কারাগারগুলোর ধারণক্ষমতার প্রায় চারগুণ। সংশ্লিষ্টদের মতে, অতিরিক্ত বন্দির চাপ দীর্ঘদিন ধরেই কারাগার ব্যবস্থাপনাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
এর আগে, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে কোভিড-১৯ মহামারির সময় দেশটির আরেকটি কারাগারে দাঙ্গায় ১১ জন বন্দি নিহত এবং ১১৭ জন আহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনার পর কারাগারগুলোর অতিরিক্ত ভিড় কমাতে শত শত বন্দিকে মুক্তি দিয়েছিল সরকার।
সূত্র: বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ান


