মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির কারাবন্দি সাবেক নেত্রী অং সান সু চি ‘সুস্থ আছেন’ এবং তাকে দেখভাল করা হচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের বিশেষ দূত ও ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া থেরেসা লাজারো এ তথ্য জানিয়েছেন।

রোববার (১২ জুলাই) আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সু চিকে ‘বোন’ হিসেবে উল্লেখ করে তার সুস্থতার কথা জানান বলে লাজারো সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

লাজারো বলেন, ‘অং সান সু চি সম্পর্কে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য আমার মনে আছে। তিনি বলেছেন, সু চি সুস্থ আছেন। তিনি একজন আত্মীয়, একজন বোন; তাই আমরা তার যত্ন নেব।’

ফিলিপাইনের এই কূটনীতিক দীর্ঘদিন ধরে ৮১ বছর বয়সী সু চির সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চেয়ে আসছেন। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে তার নির্বাচিত সরকার উৎখাতের পর থেকে সু চি কারাবন্দি রয়েছেন। ওই অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে ব্যাপক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।

অং সান সু চি বর্তমানে বিভিন্ন অভিযোগে দেওয়া ২৭ বছরের সাজা ভোগ করছেন। সম্প্রতি তার সাজা এক-তৃতীয়াংশ কমানো হয়েছে। তবে তার সমর্থকরা এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করে আসছেন। সু চিও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তবে বর্তমানে সু চিকে কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারের সংকট সমাধানে আসিয়ান একটি পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল। তবে দীর্ঘ সময়েও ওই উদ্যোগে তেমন অগ্রগতি হয়নি। সংঘাতে দেশটিতে আনুমানিক এক লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রোববারের বৈঠকটি ছিল অভ্যুত্থানের পর প্রথমবারের মতো আসিয়ানের শীর্ষ কূটনীতিকদের সঙ্গে মিয়ানমারের প্রতিনিধির সরাসরি বৈঠক। বৈঠকের লক্ষ্য ছিল শান্তি উদ্যোগকে আবারও এগিয়ে নেওয়া।

লাজারো বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘এটি এক ধাপে সম্ভব হবে না। বিষয়টি ধীরে ধীরে এগোচ্ছে এবং এসব যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

সম্প্রতি মিয়ানমারের সামরিক সমর্থিত পার্লামেন্ট আসিয়ানের পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনাকে ‘হস্তক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানিয়েছে। এর পরও লাজারো জানান, আসিয়ান ওই পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে।

তিনি বলেন, এই পরিকল্পনা সংঘাতরত পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ শুরু এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার একটি কাঠামো।

থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেতকেও জানান, বৈঠকে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিন মং সুয়ের কাছে অগ্রগতির বিষয়ে আসিয়ানের প্রত্যাশা স্পষ্ট করা হয়েছে। পাশাপাশি সু চির সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে তার সুস্থতার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়।

মিয়ানমারের ২০টি রাজনৈতিক ও জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠী রোববার এক বিবৃতিতে আসিয়ানের এই বৈঠক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের অভিযোগ, শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করা একটি পক্ষের সঙ্গে আসিয়ান উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বাড়ালেও অন্য অংশীজনদের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা করছে না।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যে পক্ষ আসিয়ানের নিজস্ব কাঠামো প্রত্যাখ্যান করেছে, তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়টি সহজে ব্যাখ্যা করা কঠিন।’

এদিকে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে দুই পক্ষের সম্পর্ক উন্নয়ন, গঠনমূলক সহযোগিতা এবং আসিয়ানে মিয়ানমারের পূর্ণ ও সমান অংশগ্রহণ পুনরুদ্ধারের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স