দক্ষিণ চীন সাগরে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ফিলিপাইনকে ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের বর্ধিত-পাল্লার (ইআর) সংস্করণ সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে ম্যানিলার সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
বর্তমানে ফিলিপাইন মেরিন কোর তাদের প্রথম উপকূলভিত্তিক ব্রহ্মোস জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারিকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘ-পাল্লার ব্রহ্মোস ইআর যুক্ত হলে দেশটির প্রতিরক্ষা কৌশলে নতুন মাত্রা যোগ হবে।
রপ্তানিযোগ্য প্রথম সংস্করণের ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ছিল প্রায় ২৯০ কিলোমিটার। তবে নতুন ব্রহ্মোস ইআর ৪০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এর ফলে দক্ষিণ চীন সাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় ফিলিপাইনের নজরদারি ও প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি কার্যকর হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বাড়তি পাল্লা শুধু আঘাত হানার সক্ষমতাই বৃদ্ধি করবে না, বরং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ইউনিটগুলোকে উপকূল থেকে আরও ভেতরে নিরাপদ অবস্থানে মোতায়েন করার সুযোগ দেবে। এতে সম্ভাব্য শত্রু হামলার মুখেও এসব ইউনিটের টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়বে।
ভারতের এই প্রস্তাব ২০২২ সালের জানুয়ারিতে স্বাক্ষরিত ৩৭ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের ব্রহ্মোস ক্রয়চুক্তির ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওই চুক্তির মাধ্যমে ফিলিপাইন ছিল বিশ্বের প্রথম দেশ, যারা ভারতের কাছ থেকে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র কিনেছিল।
ম্যানিলার জন্য এই উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তাদের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইইজেড), গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ এবং কৌশলগত সামুদ্রিক প্রবেশপথগুলোর সুরক্ষা আরও জোরদার করবে। একই সঙ্গে এটি দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত এলাকাগুলোতে ফিলিপাইনের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
অন্যদিকে, এই উদ্যোগ ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে নয়াদিল্লি নিজেকে শুধু একটি আঞ্চলিক শক্তি নয়, বরং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের একটি নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা অংশীদার ও উন্নত অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ পাচ্ছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক সামুদ্রিক যুদ্ধক্ষেত্রে গতিশীলতা, টিকে থাকার সক্ষমতা এবং নির্ভুল আঘাত হানার ক্ষমতা—এই তিনটি বিষয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ব্রহ্মোস ইআর যুক্ত হলে ফিলিপাইনের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এই তিন ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটবে, যা দক্ষিণ চীন সাগরের কৌশলগত ভারসাম্যে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে।


