রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প। পরিদর্শনকালে তিনি তুরস্কের সহায়তায় পরিচালিত চিকিৎসা ও মানবিক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রা ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে ঢাকা থেকে বিশেষ বিমানে কক্সবাজারে পৌঁছে তিনি উখিয়ার বালুখালী এলাকার ৯, ১৬ ও ১৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। প্রথমে ক্যাম্প-৯ এ অবস্থিত তুরস্কের সহায়তায় পরিচালিত অস্থায়ী হাসপাতাল পরিদর্শন করে চিকিৎসক, নার্স ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অবগত হন।

পরে ক্যাম্প-১৬ ও ১৭-তে গিয়ে তুরস্কের সহায়তায় পরিচালিত বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গাদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, কারিগরি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং হস্তশিল্প প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করে। প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন তারা।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির,  প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসমা, উখিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মুজিবুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে সন্ধ্যায় কক্সবাজার বিমানবন্দরে ফিরে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে তুরস্কই একমাত্র দেশ, যারা নিজস্ব সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তুরস্ক পরিচালিত হাসপাতাল ও অন্যান্য মানবিক উদ্যোগের কার্যক্রমে প্রতিনিধিদল সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

তিনি আরও জানান, বৈশ্বিক তহবিল সংকটের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় অর্থায়নে চাপ সৃষ্টি হলেও তুরস্ক বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। দেশটি ভবিষ্যতেও রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।