সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ীর বিভিন্ন চরমপন্থী সংগঠনের ৬৫ জন সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন। রোববার (০১ নভেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) কার্যালয়ে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুলের উপস্থিতিতে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন।
এসআরবি-১২ সূত্রে জানা গেছে, আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে পাবনার ৪৫ জন, রাজবাড়ীর ১৩ জন এবং সিরাজগঞ্জের সাতজন রয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি, কেউ পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি এবং কেউ নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, ভুল বুঝে যারা চরমপন্থী সংগঠনে যোগ দিয়েছিলেন, তারা নিজেদের ভুল উপলব্ধি করে আত্মসমর্পণ করছেন। তাঁদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে আইনি পরামর্শসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আত্মসমর্পণকারীদের দীর্ঘদিনের নানা জটিলতা ও সমস্যা সমাধানে সরকার পাশে থাকবে। অন্ধকার জগত থেকে তাঁদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে একটি প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আত্মসমর্পণকারীদের কাছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে তা দিয়ে এসআরবিকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
এসআরবি-১২–এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি আতিকুর রহমান মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খান, এসআরবির মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি আহসান হাবিব পলাশ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল ইফতেখার আহমেদ, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আশিক সাঈদ, রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) শাহানা আখতার জাহান বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আত্মসমর্পণকারীদের অনেকের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, বিস্ফোরক দ্রব্য ও অস্ত্রসংক্রান্ত মামলা রয়েছে। এসব মামলা পর্যালোচনা করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি তাঁদের পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে সরকার সহযোগিতা করবে।
উল্লেখ্য, একসময় সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ীর বিভিন্ন এলাকায় চরমপন্থীদের তৎপরতা ছিল ব্যাপক। চাঁদাবাজি, ডাকাতি, ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান এবং আত্মসমর্পণ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এর আগে, ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল পাবনায় পুলিশের কাছে ৫৯৬ জন এবং ২০২৩ সালের ২১ মে সিরাজগঞ্জে সাত জেলার ৩২৩ জন চরমপন্থী আত্মসমর্পণ করেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার আরও ৬৫ জন আত্মসমর্পণ করলেন।


