পশ্চিমবঙ্গ সরকার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফের হাতে প্রাথমিকভাবে ২৭ কিলোমিটার জমি হস্তান্তর করেছে। বুধবার (২০ মে) রাজ্য সরকারের সচিবালয় নবান্নে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
গত ৯ মে বিজেপির নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পর ১১ মে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই অরক্ষিত সীমান্তে দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী তখন নির্দেশ দিয়েছিলেন, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় জমি বিএসএফের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিএসএফ সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে জমি চেয়ে এলেও আগের সরকার সহযোগিতা করেনি। এতে রাজ্য ও দেশের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের মোট সীমান্ত প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার, যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের অংশ প্রায় ২২০০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১৬০০ কিলোমিটারে ইতোমধ্যে কাঁটাতারের বেড়া রয়েছে, তবে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত এখনো অরক্ষিত। এছাড়া ৫৫৫ কিলোমিটার এলাকায় রাজ্য সরকার জমি দিতে পারলেও পূর্ববর্তী সরকার তা দেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে নিয়মিত সীমান্ত সমন্বয় বৈঠক আয়োজন করা হবে। তিনি বিএসএফের সঙ্গে ‘সুদৃঢ় সমন্বয়’ গড়ে তোলার কথাও উল্লেখ করেন।
বিএসএফের মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার জানান, খুব শিগগিরই সীমান্তে নতুন কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ শুরু হবে এবং বিশেষ করে সুন্দরবন এলাকায় নতুন সীমান্ত চৌকি স্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি চোরাকারবারিদের একটি তালিকাও রাজ্য সরকারের কাছে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও কঠোর অবস্থানের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হবে এবং বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে। পরে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনের আওতাভুক্ত সাতটি সম্প্রদায়ের যেসব মানুষ ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন, তাদের হয়রানি করা হবে না। তবে সিএএ’র আওতার বাইরে থাকা ব্যক্তিদের ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।


