কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে লক্ষ লক্ষ মানুষের অফিসিয়াল নথিতে জন্মদিন একই, ১ জানুয়ারি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস–এর এক প্রতিবেদনে এমন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে আসা বিপুল শরণার্থী ঢল সামাল দিতে গিয়ে তাড়াহুড়ার মধ্যে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অনেকের সঠিক জন্মতারিখ যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে একটি ‘ডিফল্ট’ তারিখ হিসেবে ১ জানুয়ারি ব্যবহার করা হয়, যা বর্তমানে প্রায় ৬৭ শতাংশ রোহিঙ্গার নথিতে রয়েছে।
বিষয়টি বাইরে থেকে হাস্যরসের মনে হলেও বাস্তবে এটি গভীর পরিচয় সংকটের প্রতীক। অনেকেই জানান, নিজেদের প্রকৃত জন্মতারিখ থাকা সত্ত্বেও সরকারি কাগজে ভুল তথ্য বহন করতে হচ্ছে, যা তাদের মানসিকভাবে কষ্ট দেয় এবং বাস্তব জীবনেও নানা জটিলতা তৈরি করছে। রাষ্ট্রহীন এই জনগোষ্ঠীর জন্য একটি পরিচয়পত্রই অস্তিত্বের শেষ চিহ্ন, কিন্তু সেই নথিতেই ভুল তথ্য থাকায় সমস্যা আরও প্রকট হচ্ছে।
যদিও ইউএনএইচসিআর তথ্য সংশোধনের সুযোগের কথা বলছে, বাস্তবে প্রমাণের অভাব ও প্রশাসনিক জটিলতায় তা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমনকি বিদেশে পুনর্বাসিত রোহিঙ্গারাও এই ভুল তথ্যের বোঝা বহন করছেন।
ফলে ১ জানুয়ারি শুধু একটি তারিখ নয়- এটি হয়ে উঠেছে হারিয়ে যাওয়া পরিচয়, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এবং রাষ্ট্রহীন জীবনের এক নীরব প্রতীক।


