রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি প্রধান ও কমান্ডার-ইন-চিফের ৪৭তম জন্মদিন উপলক্ষে ৮২ জন রোহিঙ্গা মুসলিমকে মুক্তি দিয়েছে বিদ্রোহী এ সংগঠন। গত ৭ নভেম্বর বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হয় এবং দুই দিন পর ৯ নভেম্বর তাদের পরিবারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।

মুক্তিপ্রাপ্ত রোহিঙ্গাদের মধ্যে অনেকেই গত ২০২৪ সালে আটক হয়েছিলেন। অভিযোগ ছিল, তারা মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কাউন্সিলের সাথে যুক্ত ছিলেন অথবা রোহিঙ্গা বিদ্রোহী সংগঠন আরসা ও আরএসও এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

মুক্তির আগে প্রত্যেকের কাছ থেকে আনুগত্য ও শান্তিপূর্ণ আচরণ বজায় রাখার বিষয়ে একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে জেলা রোহিঙ্গা ধর্মীয় পরিষদের সদস্য, জেলা-স্তরের জুরি সদস্য এবং আরাকান আর্মির গণ-বিপ্লবী সরকারের স্থানীয় প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তাদের পরিবারসমূহের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আরাকান আর্মির এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক বার্তা ও জনআস্থার কৌশল হিসেবে বিশ্লেষণ করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে আরাকান অঞ্চলে নিজেদের প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সমর্থন বাড়ানোর প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতা হিসেবে এটিকে দেখা হচ্ছে।

তবে রোহিঙ্গা সংগঠনগুলোর সাথে সম্ভাব্য ক্ষমতার টানাপোড়েন এবং নিজস্ব নিরাপত্তা উদ্বেগ থেকেই এদের আটক রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।