মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে ৫০ লাখের বেশি ইয়াবা ট্যাবলেট প্রবেশ করছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৬০ কোটি টাকা। স্থল ও জলপথে ছড়িয়ে পড়া এসব মাদক নিয়ন্ত্রণ করছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। একাধিক গোয়েন্দা সূত্র নিশ্চিত করেছে, বাংলাদেশে ইয়াবা বিক্রির টাকায় সংগঠনটি তার অর্থনৈতিক শক্তি বাড়াচ্ছে। বাড়তি অর্থনৈতিক শক্তি তাদের ভারী অস্ত্রের সংগ্রহ বাড়াতে ও যুদ্ধে টিকে থাকতে সহায়তা করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাখাইন রাজ্যের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণকারী আরাকান আর্মির আয়ের প্রধান উৎস এখন মাদক। মিয়ানমারের চীন সীমান্তবর্তী ওয়াফেনী ও এংন এলাকায় অন্তত ১৫টি ইয়াবা কারখানা পরিচালনা করছে তারা। এ কারখানাগুলো থেকে বাংলাদেশে প্রতিদিন পাচার হচ্ছে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা। এক দশমিক এক লাখ টাকা থেকে ১৩ লাখ টাকা মূল্যের এক কাট (১০,০০০ পিস) ইয়াবা বর্তমানে আরাকান সদস্যরা সরাসরি সীমান্তের জিরোপয়েন্টে বাংলাদেশি চোরাকারবারিদের কাছে হস্তান্তর করছে।
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি, ঘুমধুম, লামা ও আলীকদম ছাড়াও কক্সবাজারের টেকনাফ, মহেশখালী, ফিশারিঘাট, পতেঙ্গা ও গহিরা হয়ে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে ইয়াবার চালান। এসব চালান দেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে চাঁদপুর, বরিশাল, খুলনা ও মোংলা বন্দরে পৌঁছাচ্ছে। পাশাপাশি হুন্ডির মাধ্যমে পাচার করা হচ্ছে ইয়াবার টাকা, যা সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর হয়ে আবার মিয়ানমারে ফিরে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সীমান্তের অন্তত ১০০টি পয়েন্ট দিয়ে মাদক প্রবেশ করছে। শুধু মাদক নয়, বাংলাদেশ থেকে আরাকান আর্মির সদস্যদের খাদ্যসহ নানা রসদও সরবরাহ করা হচ্ছে। তারা সীমান্ত পেরিয়ে দেশের ভেতর ঢুকে পার্বত্য অঞ্চলে চলাফেরা করছে এবং স্থানীয় উপজাতি গোষ্ঠীর সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ রাখছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ড. ইমতিয়াজ আহমেদ নয়াদিগন্তকে বলেন, আরাকান আর্মির অস্ত্র সংগ্রহ ও টিকে থাকার একমাত্র পথ এখন ইয়াবা বাণিজ্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলেও এই গোষ্ঠী শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। তিনি শ্রীলঙ্কার তামিল টাইগারদের সঙ্গে আরাকান আর্মির তুলনা করে বলেন, “মাদক থেকে অস্ত্র—এই পথেই তাদের উত্থান।”
এ বিষয়ে বিজিবি জানায়, সীমান্তে কঠোর নজরদারি রয়েছে এবং নিয়মিত মাদক আটক করা হচ্ছে। তবে গোয়েন্দা সূত্র বলছে, জলপথে নজরদারি দুর্বল, আর আরাকান আর্মি একইসঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মাদক ও অস্ত্র পাচারে জড়িত।
এই ক্রমবর্ধমান হুমকি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
-পার্বত্য সময়


