মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বুথিডং অঞ্চলের রোহিঙ্গা বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে, আরাকান সশস্ত্র মিলিশিয়ারা তাদের ফসল তোলা ও মাছ ধরাকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে, ফলে তাদের বেঁচে থাকা দায় হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, হপোন ন্যো লেইক, কিনতাং ও আশপাশের গ্রামগুলোতে তারা ফসল উৎপাদনের আগে উচ্চ কর পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ যদি কর না দেয়, তাহলে তাদের ফসলের উল্লেখযোগ্য অংশ আরাকান আর্মির দখলে চলে যায়। দফায় দফায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় নিজের জমিতেও স্বাভাবিকভাবে চাষ করা যাচ্ছে না গ্রামবাসীরা জানান। এ ছাড়া নদী ও হ্রদ এলাকার মাছ ধরাও তাদের আর স্বাধীনভাবে করতে দেওয়া হচ্ছে না।
এর ফলে বাজারে চাল, সবজি এবং মাছের দাম হঠাৎ করে বৃদ্ধি পেতে থাকে। খাদ্য মজুত পরিপুঙ্খ করতে না পারায় পরিবারের লোকজন খাবার ধার করে দিন-রাত কাটাচ্ছেন বা খাবার কমিয়ে এক বেলা খাবার চালাচ্ছেন।
একজন স্থানীয় জানান, “আরাকান আর্মি জমি, পানি ও বাজার সব নিয়ন্ত্রণ করছে; যদি চাষ বা মাছ ধরা বন্ধ হয়ে যায়, আমরা বেঁচে থাকতে পারব না।”
হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ইতোমধ্যে এই ধরনের আচরণকে অর্থনৈতিক চাপ ও নিপীড়নের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ২০২৩ সালের নভেম্বরের পর থেকেই আরাকান মিলিশিয়া রাখাইন রাজ্যের বেশ কিছু অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ তৈরি করেছে, যা রোহিঙ্গাদের উপর দীর্ঘমেয়াদি নিপীড়নের একটি অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

-সূত্র- আরাকান নিউজ এজেন্সি।