আরাকান আর্মি (এএ)–র বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা বুথিডাং টাউনশিপের (উত্তর আরাকান রাজ্য) থান শক কান গ্রামের কাছে থেইন তাউং গ্রামের রোহিঙ্গা বাসিন্দাদের জোরপূর্বক মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে ২০২৪ সালের ২ মে সংঘটিত ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করতে বাধ্য করছে। ওই ঘটনায় প্রায় ৬০০ রোহিঙ্গা নিহত হয়েছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি প্রকাশিত হত্যাযজ্ঞের ছবিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও গণহত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, এএ–এর সদস্যরা জীবিতদের ভয় দেখিয়ে ভিডিও বিবৃতি দিতে এবং নথিতে সই করতে বাধ্য করেছে। একই সঙ্গে তারা কঙ্কাল সরিয়ে ও লাশ পুড়িয়ে প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা করেছে।

আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল কাউন্সিলের (এআরএনসি) সহসভাপতি ও অধিকারকর্মী নে সান লুইন জানান, আরাকান আর্মি একটি “অপরাধী গোষ্ঠী” হিসেবে এই হত্যাযজ্ঞের প্রমাণ নষ্ট করছে। তিনি বলেন, “তারা গ্রামের মানুষকে জোর করে বিবৃতিতে সই করাচ্ছে, ভিডিও বার্তা দিচ্ছে এবং এসব রেকর্ড নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে।”
আরাকান নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নে সান লুইন আরও বলেন, এএ–এর সদস্যরা কঙ্কাল সরিয়ে ফেলছে, লাশ পুড়িয়ে ফেলছে, যাতে কোনো প্রমাণ না থাকে।
মানবাধিকার সংস্থা ও স্বাধীন তদন্তকারীরা জরুরি আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, চলমান ভয়ভীতি ও চাপের কারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং সাক্ষীরা মুখ বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারেন।
এএ–এর নিয়ন্ত্রণে রোহিঙ্গারা নানান ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন- এর মধ্যে রয়েছে মিথ্যা অভিযোগে ঘরবাড়ি বন্ধ করে দেওয়া, সম্পদ দখল, মূল্যবান জিনিসপত্র লুট, বহু পরিবারকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা এবং প্রতিটি রোহিঙ্গা গ্রামের প্রবেশ ও প্রস্থানপথে নিরাপত্তা চৌকি বসিয়ে চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে আরাকান আর্মি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভিযান শুরু করে রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য। তারা ইতোমধ্যে ১৭টির মধ্যে ১৪টি শহর দখল করেছে। এই সংঘাতের মধ্যে রোহিঙ্গারা দুই পক্ষের হাতেই সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। ২০১৭ সালের মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণহত্যার পর থেকে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন।
-পার্বত্য সময়


