রাখাইন রাজ্যের মংডু শহরে আরাকান আর্মি (এএ)/ইউএলএ তাদের হাতে থাকা সম্পদ বিক্রি করছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা। ১ আগস্ট থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় এ বিক্রি শুরু হয়। তবে এসব সম্পদের মালিকানা নিয়ে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। সবই নাকি রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে লুট করা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল থেকে মংডুর উত্তর ও দক্ষিণ অংশসহ পুরো শহরজুড়ে এএ’র সদস্যরা তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, সৌর প্যানেল, ইঞ্জিন ও ব্যাটারি বিক্রি করছে। একটি ভালো মানের মোটরসাইকেল যেখানে বাজারমূল্য ১০ কোটি কিয়াট ছাড়িয়ে যায়, সেখানে তারা তা ৬০-৭০ লক্ষ কিয়াটে বিক্রি করছে। চীনা মোটরসাইকেল বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২০ লক্ষ কিয়াটে। এমনকি জনপ্রিয় W100 মডেলও বিক্রি হচ্ছে ৩০ লক্ষ কিয়াটের বেশি দামে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, এই যানবাহন ও যন্ত্রাংশের অনেকটাই রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক লুট করে নেওয়া। গত বছর আগস্টে মংডু দখলের সময় এএ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে "সুরক্ষা" দেওয়ার আশ্বাসে তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য করে। মানুষ পালানোর সময় শুধু গায়ে থাকা কাপড় নিয়ে বের হয়েছিল। কিন্তু পরে দেখা যায়, সেই ফাঁকা বাড়িঘর থেকে লুট করা হয় আসবাব, গাড়ি, বাইক, ফ্রিজ, বিছানা, প্রসাধনীসহ সবকিছু। এমনকি বিদ্যুৎ মিটার খুলেও নিয়ে যাওয়া হয় বুথিডং শহরে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মংডু শহরের অধিবাসীরা প্রায় ৫,০০০টির বেশি গাড়ি ও মোটরসাইকেলের মালিক ছিলেন। এখন এসব গাড়ি-মোটরসাইকেল এবং অন্যান্য লুট করা সামগ্রীই ফের বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে রোহিঙ্গাদের কাছেই। অর্থাৎ, যাদের কাছ থেকে জোর করে সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তাদেরই কাছেই এখন তা বিক্রি করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, মিয়ানমার সামরিক জান্তা ফের মংডু পুনর্দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে- এমন পরিস্থিতিতে এএ’র পক্ষ থেকে দ্রুত সম্পদ বিক্রির এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এক বাসিন্দা বলেন, “এএ অফিসারদের অনেককে আমরা নিজেরাই দেখেছি তাদের সম্পদ নগদ টাকায় বিক্রি করতে।”
নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে এমন লুট ও অর্থনৈতিক শোষণের ঘটনার প্রেক্ষিতে মানবাধিকারকর্মীদের নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের দৃষ্টিতে লুটপাট, প্রতারণা ও দখলদারিত্বের মাধ্যমে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী কীভাবে সাধারণ মানুষের দুর্দশাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে- মংডু আজ তার জীবন্ত উদাহরণ।
-পার্বত্য সময়


