দীর্ঘদিন নানাভাবে বিভক্ত সশস্ত্র রোহিঙ্গা গোষ্ঠীগুলো আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে। আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) এই যুদ্ধের নেতৃত্ব দিচ্ছে। আরসা'র নেতৃত্বাধীন এ যুদ্ধে প্রকট হয়েছে সৈন্যদের চিকিৎসা সেবা, প্রয়োজনীয় রশদ ও সরঞ্জামের। চিকিৎসার অভাবে সেখানে আরসা সদস্যরা মারা যাচ্ছে বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে। ফলে আরাকান আর্মির সুসজ্জিত বাহিনীর সামনে তাদের টিকে থাকা কঠিন হচ্ছে বলে দাবি করেছে একটি বিশ্বস্ত সূত্র।
আরসা'র পক্ষ হয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী এক সদস্যকে উদ্বৃতি করে ওই সূত্র জানায়, একেতো এখানে প্রতিকূল পরিবেশ, পাশাপাশি নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসা সহায়তা। যারা যুদ্ধে আহত হয়েছে তাদের দ্রুত মেডিকেল সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কিন্তু উুচঁ স্তরের নেতৃত্বের সাথে কথা বলার পরও বিষয়টি নিয়ে তারা কোনো সুরাহা করতে পারেনি। এভাবে যুদ্ধে টিকে থাকা মুশকিল।
আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাতে পর্যাপ্ত জনবলের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আধুনিক অস্ত্রের যোগান নিয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
আরেকটি ভিন্ন সূত্রের দাবি, সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার অভাবে একাধিক আরসা সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। এ মৃত্যুর খবর বাংলাদেশে টেকনাফ ও উখিয়ার ক্যাম্পেও ছড়িয়ে পড়ে বলে জানা গেছে। এরপর থেকে জোরপূর্বক কিছু যুবককে যুদ্ধে নেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় আরসা। 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সমর বিশারদ জানান, আরাকান আর্মি দীর্ঘদিন ধরে জান্তার সাথে যুদ্ধ করে অনেকটা এগিয়ে গেছে। রাখাইনের বেশিরভাগ অঞ্চল এখন তাদের দখলে। যুদ্ধ জয়ের একটা বড় অভিজ্ঞতা এখন তাদের ঝুলিতে। পুরো রাখাইনে সম্পর্কে তাদের ধারণা খুব স্পষ্ট এখন। হুট করে পর্যাপ্ত রিসোর্স ও কার্যকরী রণকৌশল ছাড়া আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে কেউ প্রত্যাশিত ফলাফল পাবে না।
তিনি মনে করেন, পর্যাপ্ত রিসোর্স না থাকার কারণে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারছে না আরসা। এই সমরবিদ যুদ্ধে সৈন্যদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মনে করেন, যুদ্ধে টিকে থাকতে প্রথমেই সৈন্য মানসিক ও দৈহিক স্বাস্থ্য দুটো বিষয় সমান গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে।
টেকনাফের হ্নীলার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেন, নাফনদীর জালিয়ার দিয়া ও লাল দিয়া নামে এ দুটি চরে মিয়ানমারের বিদ্রোহী দুটি গোষ্ঠী অবস্থান করছে। তাদের মধ্যে থেমে থেমে গোলাগুলির পাশাপাশি মংডু শহর থেকে মুহুর্মুহু বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসছে। সবমিলিয়ে সীমান্তের মানুষগুলো ভালো নেই। সবসময় আতঙ্কের মধ্যে জীবন-যাপন করতে হচ্ছে।

-পার্বত্য সময়