ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী সংখ্যালঘু-প্রধান ‘অরক্ষিত ও প্রত্যন্ত’ এলাকার আদি বাসিন্দাদের অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা শুক্রবার ঘোষণা করেন, লাইসেন্স পাওয়ার জন্য অনলাইন পোর্টাল চালু করা হয়েছে এবং যোগ্য আবেদনকারীরা সেখানেই আবেদন করতে পারবেন।
অসম সরকারের যুক্তি, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পুলিশের উপস্থিতি সীমিত এবং উত্তেজনা দেখা দিলে অতিরিক্ত বাহিনী পৌঁছাতে সময় লাগে। এ সময়ে স্থানীয় জনগণ নিজেদের সুরক্ষা করতে পারবে। মুখ্যমন্ত্রী শর্মার ভাষ্য, ‘‘যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায় সংখ্যালঘুদের আক্রমণ করে, তবে অস্ত্র থাকার কারণে হামলাকারীরা দু’বার ভাববে।’’
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, আবেদনকারীর বয়স হতে হবে অন্তত ২১ বছর, শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে এবং ফৌজদারি রেকর্ড থাকা চলবে না। ২০১৬ সালের অস্ত্র আইন অনুযায়ী প্রশিক্ষণের শংসাপত্রও আবশ্যক। তবে কোন কোন অঞ্চলকে ‘অরক্ষিত ও সংবেদনশীল’ বলা হচ্ছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ভবিষ্যতের হুমকি ও বাংলাদেশের জন্য চাপ
নতুন এই নীতি সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের জন্য একাধিক কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত সংকট তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বাংলাদেশ-অসম সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই অস্ত্র ও মাদকের অবৈধ রুট হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে বৈধ অস্ত্র পৌঁছে গেলে এগুলো সহজেই অবৈধ চোরাচালান চক্রের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সীমান্ত এলাকার অপরাধ প্রবণতা বাড়তে পারে।
শিক্ষক ও গবেষক মইনুল ইসলাম বলেন, অসম সরকারের ঘোষণায় ‘বাংলাদেশি আক্রমণ’ প্রসঙ্গ তোলা হয়েছে। এতে সীমান্তপারের জনমনে শত্রুতা ও অবিশ্বাস আরও গভীর হতে পারে। বাংলাদেশ ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা একটি সংবেদনশীল ইস্যু। অসমের এই অস্ত্র নীতি সীমান্তবর্তী এলাকায় ‘সশস্ত্র সমাজ’ গড়ে তুলতে পারে। এটা বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মানুষের জন্য উদ্বেগের।
অসমের নতুন অস্ত্র লাইসেন্স নীতি আপাতদৃষ্টিতে স্থানীয়দের সুরক্ষা নিশ্চিতের উদ্দেশ্যে নেওয়া হলেও, বাস্তবে এটি সীমান্তপারের অবৈধ অস্ত্র প্রবাহ, সীমান্ত উত্তেজনা এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিরতা বাড়ানোর মতো গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সতর্কতা ও সীমান্তে নজরদারি জোরদার করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞ মহলে।
-পার্বত্য সময়


