ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বাহিনীর এক অভিযানে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রভাবশালী মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস। শনিবার (৩ জানুয়ারি) গভীর রাতে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার উদ্দেশ্যে এই অভিযান চালানো হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভেনেজুয়েলার এক সরকারি কর্মকর্তা হতাহতের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকের পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানী কারাকাসের বিমানবন্দরের পশ্চিমে অবস্থিত উপকূলীয় এলাকা কাতিয়া লা মার-এর একটি তিনতলা আবাসিক ভবনে মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে হামলা চালানো হয়। এতে ভবনটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তবে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা কিংবা অভিযানের পূর্ণ পরিধি সম্পর্কে হোয়াইট হাউস অথবা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিহতদের মধ্যে রোজা গঞ্জালেজ নামে ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা এবং তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য রয়েছেন বলে জানা গেছে। এ হামলায় আরও অন্তত একজন আহত হয়েছেন।

আহতদের একজন উইলম্যান গঞ্জালেস জানান, বিমান হামলায় তার বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার ৭০ বছর বয়সী প্রতিবেশী জর্জ টাইমসকে বলেন,এই হামলায় আমি সবকিছু হারিয়েছি।

এদিকে অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন,ভেনেজুয়েলায় শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতার পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত দেশটির পরিচালনার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্র নেবে।

ট্রাম্প আরও বলেন, মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার তেল ও খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবে এবং দেশের অবকাঠামো পুনর্গঠনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কার্যক্রম শুরু করবে।

একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে ভেনেজুয়েলায় আরও বড় পরিসরের দ্বিতীয় দফা হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে।

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাশিয়া এ হামলার নিন্দা জানিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। চীন যুক্তরাষ্ট্রকে অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। কিউবা, ইরানসহ একাধিক দেশও হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

এ ছাড়া মাদুরোকে আটক করার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি বলেন, এই অভিযান আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।