মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের একটি হাসপাতালে সাম্প্রতিক বোমা হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে রাখাইনে সহিংসতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সরকার।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে হামলায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয় এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, রাখাইনের একটি হাসপাতালে বোমা হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ নিন্দা জানাচ্ছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে ওই অঞ্চলে সহিংসতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো গভীর উদ্বেগের বিষয়।
খবরে জানা গেছে, গত বুধবার রাতে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন রাখাইনের ম্রাউক-উ শহরের জেনারেল হাসপাতালে বিমান হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ৩৪ জন রোগী ও চিকিৎসক নিহত এবং ৮০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রয়টার্সকে দেওয়া এক বক্তব্যে আরাকান আর্মির এক মুখপাত্র জানান, সরাসরি বোমা আঘাত হানায় হাসপাতালটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়, যার ফলে হতাহতের সংখ্যা বেশি হয়েছে। তবে এ ঘটনায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। জান্তা সরকারের দাবি, হামলার শিকার হাসপাতালটি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ব্যবহার করছিল।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকার সব বেসামরিক নাগরিক ও বেসামরিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে রোহিঙ্গা ও রাখাইন সম্প্রদায়সহ সব জনগোষ্ঠীকে সহিংসতা থেকে রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে।
এ ছাড়া রাখাইনে চলমান সংঘাত বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকাতেও প্রভাব ফেলছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, টেকনাফ সীমান্তে গোলাগুলির আঘাতে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।


