আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে পাকিস্তানের করাচি সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। এর ফলে চীনসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যে করাচি বন্দর ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তবে এ বিষয়ে আনুষঙ্গিক কার্যক্রম কতটা বাস্তবসম্মত হবে- তা নির্ধারণ করবে দুই দেশের কর্মকর্তাদের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ। বৈঠকের সময় এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

সোমবার (২৭) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ–পাকিস্তানের নবম যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন (জেইসি) বৈঠকে এ অগ্রগতি হয়। দুই দশক পর অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং পাকিস্তানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক।

বৈঠকে অংশ নেওয়া অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, করাচি বন্দর ব্যবহারে পাকিস্তানের উদ্যোগ চোখে পড়ার মতো। সম্ভাব্য সুবিধা–অসুবিধা যাচাই শেষে বিষয়টির বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে।

জেইসির প্রস্তুতি সভায় জানানো হয়, চীনসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে পণ্য পরিবহনে করাচি বন্দর ব্যবহারের সুযোগ তৈরিতে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন এবং পাকিস্তান শিপিং করপোরেশনের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষই আগ্রহ দেখিয়েছে।

এছাড়া বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশের পাটজাত পণ্যের ওপর শুল্ক প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় পাকিস্তান। পাশাপাশি বিমান যোগাযোগ, নৌ চলাচল, কৃষি, ব্যাংকিং, জ্বালানি, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বিস্তারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে।

পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক বলেন, এই সংলাপ পারস্পরিক আস্থা ও জনগণের সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে। বাংলাদেশ থেকে পাট ও ওষুধ আমদানির সম্ভাবনাও আমরা দেখছি।

বৈঠক শেষে হালাল বাণিজ্য সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং পাকিস্তান হালাল অথরিটির (পিএইচএ) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

এ ছাড়া বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সঙ্গে আলাদা বৈঠকে আলী পারভেজ মালিক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের অপার সম্ভাবনা বাস্তবায়নে বাণিজ্য সুবিধা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তিতে এখন প্রয়োজন অর্থনৈতিক সম্পর্কোন্নয়ন ও সীমাবদ্ধতা দূর করা।