ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের পুনে দুর্গের প্রাঙ্গণে তিন মুসলিম নারী ও তিন কিশোরী নামাজ আদায় করেন- এমন একটি ভিডিও শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গন। এর পরদিনই শনিবার ওই স্থানকে ‘গোমূত্র দিয়ে পবিত্র’ করেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাংসদ মেধা কুলকার্নি।

বিজেপিঘনিষ্ঠ এক হিন্দু সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তিনি ‘শুদ্ধিকরণ’ নামে এক অনুষ্ঠান আয়োজন করেন। সেখানে গোমূত্র ছিটিয়ে ‘শিব বন্দনা’ ও পূজা-পার্বণ অনুষ্ঠিত হয়। এই ঘটনার ভিডিওও ভাইরাল হলে দেশজুড়ে শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া।

অল ইন্ডিয়া মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম)-এর মুখপাত্র ওয়ারিশ পাঠান বিজেপির এই কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, তারা শুধুই ঘৃণা ছড়াচ্ছে। তিন-চারজন মুসলিম নারী যদি জুমার দিনে তিন মিনিট নামাজ পড়েন, তাতে কী এমন সমস্যা? যখন হিন্দুরা বিমানবন্দর বা ট্রেনে পূজা করেন, তখন তো আমরা কিছু বলি না।

তিনি আরও বলেন, সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদে ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা আছে। তাহলে কেন এত ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে? যাদের মন ঘৃণায় ভরা, তাদের মনই আগে পরিশুদ্ধ করা দরকার।

অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা নিতেশ রানে মন্তব্য করেন, শনিবারওয়াড়া হিন্দুদের সাহসিকতার প্রতীক। যদি মুসলিমরা সেখানে নামাজ পড়তে পারেন, তবে হিন্দুরা হাজি আলীতে হনুমান চালিসা পাঠ করলে সেটাও কেউ অপমানজনক বলবে না।

তার এই বক্তব্যকে ‘সাম্প্রদায়িক উসকানি’ বলে অভিহিত করেছেন বিরোধী নেতারা। এনসিপি মুখপাত্র রুপালি পাতিল থোম্বরে পুলিশকে আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে নিতেশ রানে ও মেধা কুলকার্নির বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগে মামলা করা হয়।

ঘটনাস্থল ‘শনিবারওয়াড়া দুর্গ’- মারাঠা সাম্রাজ্যের ঐতিহাসিক স্থাপনা, যা বর্তমানে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (এএসআই)-এর অধীন সুরক্ষিত এলাকা। এএসআই-এর এক কর্মকর্তা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় মুসলিম নারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেছেন।

পুনে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, শনিবারওয়াড়া দুর্গ একটি এএসআই-সুরক্ষিত স্থাপনা। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।