বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে জান্তার সেনাবাহিনী যুদ্ধবিমানসহ অন্যান্য সমরাস্ত্র ব্যবহার করে গুলি ও বোমা বর্ষন অব্যাহত রেখেছে বলে জানা যায়। ১১ এবং ১২ জানুয়ারি বিমান হামলায় রামি টাউনশিপ এলাকায় এসব হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে। এ হামলায় ওই এলাকার ২৬ জন রোহিঙ্গা, রাখাইন সম্প্রদায়ের ২৭ জন নিহত এবং অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। এসময় কয়েকশ ঘরবাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলায় ব্যবহার করা এসব যুদ্ধবিমান ও সমরাস্ত্রগুলো চীন ও রাশিয়ার সরবরাহ করা বলে জানা গেছে।
এদিকে রাখাইনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি রাখাইন প্রদেশের যে সমস্ত এলাকা দখলে নিয়েছে সেখানে বসবাসরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বয়স অনুসারে নারী পুরুষ শিশুদের তালিকা প্রনয়ণ শুরু করছে বলে সূত্রে জানা যায়। আরাকান আর্মির পক্ষ হতে প্রতি পরিবারকে একটি করে অস্হায়ী পারিবারিক কার্ড ইস্যু ও ঘরের নম্বর দিয়েছে।
বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তের মিয়ানমার অংশের ২৭১ কিমি আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। এরপর থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশের চিহ্নিত চোরাকারবারী সিন্ডিকেট এর মাধ্যমে বাংলাদেশ হতে অবৈধভাবে মালামাল পারাপারের সহায়তা প্রদান করছে আরাকান আর্মি। এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া সংলগ্ন এলাকায় দৈনিক হাট চালু করেছে বলে জানা গেছে। ফলে সীমান্ত এলাকায় চিহ্নিত চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের সক্রিয়তা এবং অবৈধ পারাপার বেড়েই চলেছে ।
গত বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) রাত ৮ টার দিকে তুমব্রু বাজারের নুরমহল ষ্টোর হতে মালামাল মিয়ানমারে পারাপারের জন্য ওই দোকানের এক কর্মচারীকে বেধরক মেরেছে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতা। ওই ছাত্রলীগ নেতার নাম ফয়সাল বলে জানা গেছে। সে স্থানীয় চোরাচালান সিন্ডিকেট এর সক্রিয় সদস্য ও ঘুমধুম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। এ ঘটনায় ৬ জনের বিরুদ্ধে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছে বলে জানা যায়।
সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, মানব পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে সতর্ক অবস্থায় আছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সীমান্তে যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দিয়েছে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।
-পার্বত্য সময়


