মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অব্যাহত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করার অভিযোগে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য ব্রিটিশ সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা ‘বার্মা ক্যাম্পেইন ইউকে’।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, আরাকান আর্মি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নৃশংসতা চালিয়ে যাচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। একইসঙ্গে রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠকেরও দাবি তুলেছে তারা।
‘জনগণের নায়ক’ থেকে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী’
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর জান্তা বাহিনীর হাত থেকে রাখাইনকে মুক্ত করার লড়াইয়ে আরাকান আর্মি প্রধান ত্বান ম্রাত নাইংকে শুরুতে ‘গণনায়ক’ হিসেবে দেখা হয়েছিল। তবে বার্মা ক্যাম্পেইন ইউকে-র দাবি, বর্তমান বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। আরাকান আর্মির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড জান্তা বাহিনীর নিষ্ঠুরতাকেও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।
গুরুতর অভিযোগের খতিয়ান
জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আরাকান আর্মির অপরাধের তালিকায় রয়েছে:
বেসামরিক হত্যা: ড্রোন হামলা এবং নির্বিচার গুলিবর্ষণে শত শত সাধারণ মানুষকে হত্যা।
রোহিঙ্গা গণহত্যা: রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জান্তা সরকারের অনুসৃত জাতিগত নিধন বা জেনোসাইড নীতি অব্যাহত রাখা।
নারীর ওপর সহিংসতা: চিন রাজ্যে নারীদের ধর্ষণ ও হত্যার মতো ভয়াবহ অপরাধের অভিযোগ।
যুদ্ধবন্দি হত্যা: আন্তর্জাতিক যুদ্ধ আইন লঙ্ঘন করে যুদ্ধবন্দিদের বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা।
বার্মা ক্যাম্পেইন ইউকে-র পরিচালক মার্ক ফারমানার বলেন, আরাকান আর্মিকে জবাবদিহিতার আওতায় না আনা মানেই তাদের অপরাধ করতে উৎসাহিত করা। আমরা তাদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনার চেষ্টা করেছি, কিন্তু তাতে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। এখন সময় হয়েছে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার।
সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, আরাকান আর্মির নেতাদের ওপর ব্রিটেনের আর্থিক নিষেধাজ্ঞায় হয়তো তাদের বড় কোনো অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে না, কিন্তু এটি একটি আন্তর্জাতিক ‘সংকেত’ হিসেবে কাজ করবে। জান্তা বাহিনীর মতো এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীকেও যে বিশ্ব সমভাবে অপরাধী হিসেবে দেখছে, তা স্পষ্ট করা জরুরি।
জান্তা বাহিনী কি শক্তিশালী হবে?
আরাকান আর্মির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা লাভবান হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে বার্মা ক্যাম্পেইন ইউকে জানায়, আরাকান আর্মি আন্তর্জাতিক কোনো অস্ত্র বা তহবিল গ্রহণ করে না। ফলে এই নিষেধাজ্ঞায় জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের লড়াই করার সক্ষমতা কমবে না, বরং তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লাগাম টানা সম্ভব হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, অন্যান্য জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর মানবাধিকার রেকর্ড নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, জান্তা বাহিনীর পর আরাকান আর্মির মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাত্রা ও পরিধি বর্তমানে সবচেয়ে উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।


