কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নতুন পদ্ধতিতে মাসিক খাদ্য সহায়তা বিতরণ শুরু হওয়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) থেকে পরিবারভিত্তিক তিনটি ক্যাটাগরিতে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে- আগের ১২ ডলারের পরিবর্তে এখন কেউ পাচ্ছেন ৭, কেউ ১০, আবার কেউ ১২ ডলার।

সহায়তা কমে যাওয়ায় খাদ্যসংকট, অপুষ্টি এবং নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন রোহিঙ্গারা।

উখিয়ার ৩ নম্বর ক্যাম্পের এফ-৪ ব্লকের বাসিন্দা রমজান আলী জানান, তার পরিবারে সদস্য সংখ্যা ১২ জন। আগে ১২ ডলারের সহায়তায় কোনোভাবে দিন কাটালেও এখন ৭ ডলারে তা সম্ভব নয়। একই ক্যাম্পের বাসিন্দা লাল মতি বলেন, এত বড় পরিবার নিয়ে সীমিত সহায়তায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

ক্যাম্প-৩-এর বাসিন্দা আব্দুল শুক্কুর অভিযোগ করেন, কেন সহায়তা কমানো হয়েছে সে বিষয়ে পরিষ্কার কোনো ব্যাখ্যা পাচ্ছেন না তারা। অভিযোগ জানানোর কথা বলা হলেও কোথায় বা কীভাবে তা করতে হবে, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা নেই।

একইভাবে ক্যাম্প-৪-এর বাসিন্দা রায়জু জানান, আগে যেখানে তেল, ডাল, চিনি, পেঁয়াজসহ নানা খাদ্যপণ্য পাওয়া যেত, এখন সেখানে সীমিত সহায়তায় কেবল চাল ও অল্প কিছু পণ্য দেওয়া হচ্ছে। এতে পুরো মাস চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরেক বাসিন্দা মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, সহায়তা কমে যাওয়ায় অনেকেই বেঁচে থাকার তাগিদে ঝুঁকিপূর্ণ পথে যেতে বাধ্য হতে পারেন। নুরুল ইসলামও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, পরিস্থিতি এমন থাকলে অপরাধ প্রবণতা বাড়তে পারে।

এদিকে তহবিল সংকটের কারণেই নতুন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন। কমিশনার মো. মিজানুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় এখন ‘প্রয়োজনভিত্তিক’ (নিড-বেসড) পদ্ধতিতে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, বর্তমানে সহায়তা তিন ভাগে দেওয়া হচ্ছে- সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় ১৭ শতাংশ মানুষ পাচ্ছে ৭ ডলার, ৩৩ শতাংশ পাচ্ছে ১২ ডলার এবং বাকি ৫০ শতাংশ পাচ্ছে ১০ ডলার। পরিবারে কর্মক্ষম সদস্য থাকলে তুলনামূলক কম সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি। সংস্থাটি পরিবারগুলোর আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় এই শ্রেণিবিন্যাস করছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

তবে সহায়তা কমে যাওয়ায় ক্যাম্পজুড়ে অসন্তোষ বাড়ছে। ইতোমধ্যে টেকনাফের ২৪ নম্বর ক্যাম্পে রেশন কমানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন রোহিঙ্গারা।

কর্মকর্তারা বলছেন, সীমিত সম্পদের মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র- সময় টিভি