মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কিয়াকফিউ টাউনশিপে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী (এসএসি) ও বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মির (এএ) মধ্যে চলমান তীব্র সংঘর্ষের কারণে হাজারো মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। মানবিক সহায়তামূলক প্রতিষ্ঠান ট্রিপল টি’র তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত অন্তত ১৭টি গ্রাম থেকে তিন হাজারেরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক এনজিও ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্বে কাজ করা মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংস্থা ট্রিপল টি জানায়, গত কয়েকদিন ধরে কিয়াকফিউ টাউনশিপে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর ব্যাপক আক্রমণ চলছে। মিন পাইন, গৌডু ইওয়া থিট ও তাই চাউংয়ের মতো গ্রামগুলোর কাছে ভয়াবহ লড়াইয়ের কারণে মানুষজন আতঙ্কে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে।

পরিবার নিয়ে নৌপথে নিরাপদ আশ্রয়ে যাচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দারা। ছবি- প্রতিনিধি

ট্রিপল টি’র প্রতিষ্ঠাতা কো ভিক্টর জানান, “কিয়াকফিউ টাউনশিপের অন্তত ১৭টি গ্রাম থেকে ৩,০০০ জনেরও বেশি বাসিন্দাকে সরিয়ে অস্থায়ী নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে, যার ফলে অধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।”

ফেব্রুয়ারি ২০২৫ থেকে কিয়াকফিউ টাউনশিপজুড়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চলছে। এসব হামলা ও পাল্টা হামলার কারণে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০,০০০ মানুষ আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত টাউনশিপ, শহর এবং গ্রামাঞ্চল থেকে প্রাণ বাঁচাতে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সাথে নিয়ে যাচ্ছে বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা। ছবি- প্রতিনিধি

সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে রাখাইন অঞ্চলের মানবিক পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটছে। খাদ্য, চিকিৎসা, নিরাপত্তা সব ক্ষেত্রেই ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে। এলাকা থেকে মানুষের স্রোত অব্যাহত থাকায় সীমান্ত অঞ্চলেও উত্তেজনা বাড়ছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, সংঘর্ষ আরও দীর্ঘায়িত হলে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সাধারণ জনগণ নিরাপত্তার খোঁজে বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকার দিকে আসতে পারে-এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

রাখাইন রাজ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি ঘিরে মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং দ্রুত লড়াই বন্ধ করে মানবিক করিডোর নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে।