রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বিশেষ করে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসন সহজতর করতে থাইল্যান্ডের অব্যাহত সমর্থন প্রত্যাশা করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিথিপর্ন চিরাসাওয়াদি। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটসহ দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত জানান, এপ্রিলে থাইল্যান্ডে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর ঢাকা ও ব্যাংককের মধ্যে চতুর্থ পররাষ্ট্র দপ্তরের পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হতে পারে। তিনি বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বলেন, আসিয়ানের বাইরেও শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ থাইল্যান্ডের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ক্রমবর্ধমান বাজার।
বৈঠকে দুই দেশের সাংস্কৃতিক ঘনিষ্ঠতার বিষয়ও উঠে আসে। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, চিকিৎসা ও পর্যটনের জন্য থাইল্যান্ড বাংলাদেশিদের একটি জনপ্রিয় গন্তব্য। উভয়পক্ষ জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যে চতুর্থ পররাষ্ট্র দপ্তরের পরামর্শ সভা আহ্বানের গুরুত্ব তুলে ধরেন। উভয়পক্ষই মনে করেন, এই সভা বছরের বিভিন্ন সময়ে উচ্চপর্যায়ের সফরের পথ প্রশস্ত করতে পারে। আলোচনায় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রতিমন্ত্রী সুষম বাণিজ্য বিকাশে বাংলাদেশি রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন শুল্ক বাধা দূর করার বিষয়টি তুলে ধরেন। পাশাপাশি সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়।
তিনি যৌথ প্রদর্শনী এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেন। এ সময় রাষ্ট্রদূত জানান, আগামী জুলাই মাসে ঢাকায় একটি থাই বাণিজ্য প্রদর্শনীর আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে দক্ষ জনশক্তি সরবরাহের মাধ্যমে বাংলাদেশ থাইল্যান্ডের শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে তিনি আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার প্রচেষ্টায় থাইল্যান্ডের সমর্থন কামনা করেন।
বৈঠকে উভয়পক্ষ বিমসটেকের আওতায় আঞ্চলিক সংযোগসহ বিভিন্ন সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।


