মিয়ানমার থেকে পালিয়ে সাত বছর ধরে বাংলাদেশে আশ্রয়ে থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বলিষ্ঠ সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলী সংক্রান্ত উচ্চ প্রতিনিধি খলিলুর রহমান।
কাতারের দোহায় শেরাটন হোটেলে চলমান দোহা ফোরামে বাংলাদেশ বিষয়ক একটি অধিবেশনে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনে বৈশ্বিক ঐকমত্য জরুরি।
দোহা ফোরামে ‘ক্রসরোডে বাংলাদেশ: শাসন ব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং শেখ হাসিনা পরবর্তী গতিপথ’ শীর্ষক অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তিনি। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আলোচনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
দোহা ফোরামের দ্বিতীয় দিনে ওই অধিবেশনের শুরুতে দোহা ফোরামে প্রধান উপদেষ্টার একটি ভিডিও বার্তা প্রচার করা হয়। এ অধিবেশনে কাতারের উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিমন্ত্রী অংশ নেন।
খলিলুর রহমান বলেন, প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে শুধু মানবতার কারণে শত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ গত সাত বছর ধরে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে।
“বিশ্ব সম্প্রদায়ের অধিকতর সহায়তা ছাড়া বাংলাদেশের পক্ষে এটি অব্যাহত রাখা খুবই কঠিন হয়ে পড়ছে। দ্রুততার সাথে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে বৈশ্বিক ঐকমত্য গঠনে জোর দিচ্ছি।”
রোহিঙ্গা বিষয়ে আগামী বছর জাতিসংঘের একটি বিশেষ সম্মেলন হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আশা করছি, এ সম্মেলনের মাধ্যমে সকল অংশীজনের সহায়তায় রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনে সহায়ক হবে।”
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বক্তব্যে উচ্চ প্রতিনিধি বাংলাদেশে জুলাই- আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে দমনে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকার কীভাবে নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে ও হাজার হাজার ছাত্র-জনতাকে গুলি করে আহত করেছে, পঙ্গু করেছে, অন্ধ করে দিয়েছে- তা তুলে ধরেন তিনি।”
তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ও সাম্যের ভিত্তিতে দেশ গড়ার অপার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কারের মাধ্যমে সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।
“একজন কৃষক, শ্রমজীবী বা প্রান্তিক মানুষের সন্তান যখন দেশ পরিচালনার স্বপ্ন দেখতে পাবেন বা সে সুযোগ তৈরি হবে- তখন আমরা বলতে পারব ভালো কাজ হয়েছে, ভালো সংস্কার হয়েছে। সে লক্ষ্যেই অন্তর্বতীকালীন সরকার কাজ করে যাচ্ছে।”
বাংলাদেশ-ভারত প্রসঙ্গও তার বক্তব্যে তুলে ধরে উচ্চ প্রতিনিধি খলিল বলেন, “আমরা প্রতিদিন সঙ্ঘবদ্ধ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচারের শিকার হচ্ছি।”
ভারতের কাছ থেকে ‘অধিক বেশি দায়িত্বশীল ও প্রতিবেশীসুলভ’ সহযোগিতা পাওয়ার প্রত্যাশার কথাও বলেন তিনি।
তার আশা দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিবের আসন্ন বৈঠকে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ককে উন্নত পর্যায়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
এ অধিবেশনে লন্ডনভিত্তিক জাগরণ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শরীফ বান্নার সঞ্চালনায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সহসমন্বয়ক সাজিদ মাহমুদ, সোয়াস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধ্যাপক নাওমি হোসেন, বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সিনথিয়া ফরিদ, ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড গভর্নেন্সের চেয়ারম্যান সৈয়দ মুনির খসরু বক্তব্য দেন।
--পার্বত্য সময়


