বাংলাদেশ নাকি ‘বৃহৎ বাংলা’ প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে চলেছে- এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে ভারতের কিছু মিডিয়া। দ্যা টাইম ও আনন্দবাজার গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘এই সময়’সহ কয়েকটি গণমাধ্যম দাবি করেছে, বাংলাদেশ ভারতের সেভেন সিস্টার্স খ্যাত উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো এবং পশ্চিমবঙ্গের কিছু জেলা নিয়ে একটি বিশাল ‘বৃহৎ বাংলা’ প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র করছে। এমনকি পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা থেকে সরিয়ে মালদহকে না কি নতুন রাজধানী করার পরিকল্পনাও চলছে!
এই মিডিয়া রিপোর্টে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সহায়তায় জামায়াতে ইসলামি ও হিযবুত তাহরীরের মাধ্যমে এই বৃহৎ বাংলা পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে। রিপোর্টের প্রচারক হিমাদ্রি সরকার, অয়ন্তিকা সাহা ও অনমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের ভাষ্যমতে, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর "একাত্তরের" স্বাধীনতার চেয়েও বড় অর্জন বলে কেউ কেউ উল্লাস করছে, আবার অনেকে বলছে বাংলাদেশ মৌলবাদীদের হাতে পড়েছে।
ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, এই পরিকল্পনা অন্তত পাঁচ বছর ধরে প্রস্তুত করা হচ্ছিল, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন হাসিনা’। তাদের দাবি, বাংলাদেশ দখল শুধু প্রাথমিক ধাপ, মূল লক্ষ্য হলো পুরো উত্তর-পূর্ব ভারত ও পশ্চিমবঙ্গের কিছু অংশ নিয়ে একটি বৃহৎ খিলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। প্রশাসনিক সুবিধার জন্য এই বৃহৎ বাংলা নাকি কয়েকটি প্রদেশে ভাগ করা হবে, যেখানে পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজধানী হবে মালদহ।
তাদের মতে, ঢাকায় হাসিনার পতনের পর থেকেই জামায়াত ঘনিষ্ঠ সেনা কর্মকর্তারা, এনজিওকর্মী ও ছাত্রনেতারা ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্য বিচ্ছিন্ন করার এবং চার দিনে কলকাতা দখলের স্বপ্ন প্রচার করছে। মুর্শিদাবাদ ও মালদহে বিএসএফের উপর হামলা এবং সাম্প্রতিক গোষ্ঠী সংঘর্ষকে এর প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ঢাকায় আইএস-এর পতাকা নিয়ে মিছিলের দৃশ্যকেও এই প্রচারণার অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির সরাসরি এই ষড়যন্ত্রে জড়িত। করাচি থেকে চট্টগ্রামে নিয়মিত কনটেইনার পাঠানোর কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ-প্রশিক্ষিত সেনারা পাকিস্তান গিয়ে মহড়া দিয়েছে এবং আইএসআই কর্মকর্তারা গোপনে বাংলাদেশ সফর করেছেন।
এই মিডিয়া দাবি করছে, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার মৌলবাদী গোষ্ঠী ও রোহিঙ্গা জঙ্গিদের সাথে সরাসরি সমন্বয় করছে। এমনকি কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর হামলার পরও বাংলাদেশের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের "ভারত নিজেরাই হামলা ঘটিয়েছে" জাতীয় মন্তব্যকে এর সাথে যুক্ত করা হয়েছে। আসিফ নজরুলের লালখান বাজার মাদ্রাসায় হারুন ইজহারসহ বিভিন্ন মৌলবাদী নেতার সাথে বৈঠকের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। হারুন ইজহারকে লস্কর-ই-তৈবার বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
তাদের মতে, বাংলাদেশের জেল থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত ৭০০ মৌলবাদী জঙ্গিকে পুনরায় সংগঠিত করা হচ্ছে। আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মৌলানা জসীমুদ্দিন রহমানির সাথে বৈঠকের মাধ্যমে নতুন জঙ্গি সংগঠন তৈরির চেষ্টা চলছে।
সবশেষে, ভারতীয় গোয়েন্দারা সতর্ক করে বলেছে- পাকিস্তানের আইএসআই আবার ঢাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যেমনটি ২০০১-২০০৬ সালের বিএনপি-জামায়াত আমলে দেখা গিয়েছিল। এ কারণে ভারতকে এই অঞ্চলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
-পার্বত্য সময়


