ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সোমবার রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) আয়োজিত ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরাম (WFF) এর ফ্ল্যাগশিপ ইভেন্টের ফাঁকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এর সঙ্গে বৈঠকে তিনি জানান, আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে সুবিধাজনক সময়ে তিনি বাংলাদেশে যাবেন।

বৈঠকে দুই নেতা সামাজিক ব্যবসা, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও দারিদ্র্য মোকাবিলার কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। প্রেসিডেন্ট লুলা জানান, ব্রাজিল তার নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্যসেবার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে ভাগ করতে চায় এবং বাংলাদেশের সামাজিক ব্যবসা ও ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে আগ্রহী। অধ্যাপক ইউনূস বৈঠককে “অসাধারণ” আখ্যা দেন।

এছাড়া দুই নেতা গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ, ফার্মাসিউটিক্যাল—বিশেষত টিকা পেটেন্টমুক্ত ও সাশ্রয়ী করার উদ্যোগ—এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার পদক্ষেপ নিয়ে সহযোগিতার সুযোগ নিয়েও আলোচনা করেন। এছাড়া বাংলাদেশের ২০২৪ সালের তরুণ নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের প্রসঙ্গও উঠে আসে।

বৈঠকে প্রেসিডেন্ট লুলা অধ্যাপক ইউনূসকে আমন্ত্রণ জানান আগামী বছরের কপ-৩০ জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য। অধ্যাপক ইউনূস জানান, তিনি হয়তো অংশ নিতে পারবেন না, কারণ ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকবেন।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আসন্ন নির্বাচন হবে বাংলাদেশের জন্য একটি “বাস্তব ও ঐতিহাসিক” মুহূর্ত, কারণ এটি গত ১৬ বছরে দেশের প্রথম সুষ্ঠু নির্বাচন। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে স্বৈরশাসকের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলো ছিল “ভুয়া ও কারচুপিপূর্ণ”।

বৈঠকে খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, SDG বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম উপস্থিত ছিলেন। ব্রাজিলের পক্ষ থেকেও কয়েকজন মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বৈঠকে অংশ নেন।

উভয় নেতা বৈঠকের এক পর্যায়ে ফুটবলকে বৈশ্বিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামে মানুষ ব্রাজিলকে সমর্থন করে।”