ভারত সরকার গোপনে ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আটক করে জোরপূর্বক মিয়ানমারে পাঠিয়েছে বলে সিএনএন এক তদন্ত প্রতিবেদনে জানিয়েছে। দিল্লি থেকে আটককৃত এই নারী-পুরুষদের প্রথমে বিমানে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে নেওয়া হয়, পরে নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে সাগরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

নিখোঁজদের স্বজনরা জানান, বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের নাম করে তাদের ডেকে নিয়ে আটক করা হয়। পরে চোখ বেঁধে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়। এ সময় ভারতীয় কর্মকর্তারা হুমকি দেন, “তোমাদের কোনও দেশ নেই, তোমাদের জীবন মূল্যহীন।”
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষ দূত টম অ্যান্ড্রুজ এ ঘটনাকে “মানবিক শালীনতার অবমাননা” এবং আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের দক্ষিণ তানিনথারি অঞ্চলে নামতে বাধ্য করা হয়। পরে এক বিদ্রোহী গোষ্ঠী তাদের আশ্রয় দিলেও প্রকৃত অবস্থান ও নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
জাতিসংঘের হিসাবে ভারতে বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার রোহিঙ্গা বাস করছে। তবে দেশটি শরণার্থী সুরক্ষা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশনে স্বাক্ষর করেনি। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বহুবার রোহিঙ্গাদের “অনুপ্রবেশকারী” আখ্যা দিয়ে বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছেন।
ভারতের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আন্তর্জাতিক মহল ঘটনাটিকে চরম অমানবিক ও বেআইনি পদক্ষেপ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে।
-পার্বত্য সময়


