ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, ভারত সবসময় প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায় এবং বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। অন্যদিকে, ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী পাকিস্তান ও চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করছেন, দুই দেশ মিলে ভারতকে কৌশলগতভাবে ঘিরে ফেলছে, যা যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে।
চীন-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে ভারতের উদ্বেগ
সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেন, "চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের সামরিক সহযোগিতা রয়েছে। এটি প্রায় শতভাগ ভার্চুয়াল সমন্বিত, যেখানে পাকিস্তানের সামরিক সরঞ্জামের বেশিরভাগই চীন থেকে আসে। ফলে দুই দিক থেকেই ভারতের জন্য সামরিক হুমকি তৈরি হয়েছে।"
কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলা কমলেও সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তান থেকে অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে বলে জানান ভারতের সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, "২০১৮ সালের পর থেকে কাশ্মীরে সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপ ৮৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে গত বছর নিহত জঙ্গিদের মধ্যে ৬০ শতাংশই পাকিস্তানি নাগরিক, যা বহিরাগত হুমকির ইঙ্গিত দেয়।"
বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ইন্দো-এশীয় নিউজ সার্ভিস (আইএএনএস)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "ভারত সবসময় প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, কারণ আমরা বন্ধু বদলাতে পারি, প্রতিবেশী নয়।"
এদিকে, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নয়াদিল্লি একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, "আমরা স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখতে চাই। সকল সংকটের সমাধান জনগণের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে হওয়া উচিত।"
তিনি আরও বলেন, "গুরুতর অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত উগ্রপন্থীদের মুক্তি বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও সংকটময় করে তুলতে পারে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব।"
বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক আলোচনা
সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি বলেন, "বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদকে স্বাভাবিক করা উচিত নয়।"
ভারতের সামরিক ও কূটনৈতিক মহল মনে করছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা উভয় দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতের উদ্বেগ কমছে না। চীন-পাকিস্তানের মিলিত প্রভাব এবং বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভারতের নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
বাংলাদেশকে পাশে চায় ভারত
দুই দিক থেকে যুদ্ধের শঙ্কা ভারতীয় সেনাপ্রধানের
ভারতকে ঘিরে পাকিস্তান-চীনের কৌশলগত সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ, বাংলাদেশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ
সি
স্টাফ রিপোর্টার
৯ মার্চ, ২০২৫ ৫:৩৪ পূর্বাহ্ন২ মিনিট পড়া

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও চিফ অফ আর্মি স্টাফ জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। ছবি: সংগৃহীত

