বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় নাগরিক, আসামের মরিগাঁও জেলার শিক্ষক খাইরুল ইসলামসহ ১৪ জনকে বিএসএফ জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশ-ইন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভারতের গুয়াহাটি হাইকোর্টে বুধবার একটি রিট মামলা দায়ের হয়েছে। এই পদক্ষেপ শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগই নয়, ভারতের আইন ও সংবিধান লঙ্ঘনের দৃষ্টান্ত হিসেবেও সামনে এসেছে।
খাইরুল ইসলামের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী হাফিজ রশিদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ইসলামের নাগরিকত্ব বিষয়ে মামলা ভারতের সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন ছিল এবং এখনো চূড়ান্ত রায় হয়নি। তবুও, তাকে গোপনে সীমান্তে নিয়ে মারধর করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়, যা "সংবিধান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন।"
বাংলাদেশে ঢোকার পরে কী ঘটেছে?
স্থানীয় সাংবাদিকদের দেওয়া ভিডিও সাক্ষাৎকারে খাইরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাকে এবং অন্যদের চোখ বেঁধে, হাত পিছমোড়া করে বেঁধে রাতের অন্ধকারে কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী ধানক্ষেত দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, খাইরুল কুড়িগ্রামের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন। স্থানীয় সাংবাদিক সাখাওয়াত হোসেনের তথ্যমতে, পুশ-ইনের পর বিজিবি তাদের আবার ফেরত পাঠাতে চাইলে বিএসএফ তাদের “বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী” বলে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
আসাম সরকার ও বিএসএফের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
ঘটনার সময় বিজিবির নিয়মিত টহল সত্ত্বেও তাদের অবস্থান অনিশ্চিত। আর বান্দরবানের পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাউসার পিপিএম (বার) কুড়িগ্রাম ঘটনায় সরাসরি জড়িত না হলেও, তিনি সম্প্রতি বলেন— অনেক গুজব আওয়ামী লীগ কর্মী এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত কিছু ব্যক্তির ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়ানো হচ্ছে, যা তদন্তে প্রমাণিতভাবে ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
আসামে মুসলিমদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে?
মানবাধিকার সংস্থা Citizens for Justice and Peace (CJP) এর তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার থেকে আসামে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষদের বেছে বেছে আটক করা হচ্ছে। এদের অনেকে আদালতের জামিনে মুক্ত, কেউ কেউ সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত লড়ছেন। কিন্তু হঠাৎ করে তাদের উঠিয়ে এনে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আইনজীবীদের তথ্য জানাতে দেওয়া হচ্ছে না, জেলারের সঙ্গে দেখা করতেও দেওয়া হয়নি।
CJP-এর আসাম ইনচার্জ পারিজাত নন্দ ঘোষ বলেন, “বিদেশির নামে দরিদ্র মুসলমানদের হেনস্তা করে একপ্রকার ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। যিনি সরকার অনুমোদিত শিক্ষক, তার ভিডিও যখন নো-ম্যানস ল্যান্ড থেকে আসে, সেটা কি আসামের জন্য লজ্জাজনক নয়?”
গুয়াহাটি হাইকোর্টে মামলা
আইনজীবী হাফিজ রশিদ চৌধুরীর মতে, ভারত সরকার ২০১৩ সালের পর আর পুশ-ব্যাক করছে না বলে এফিডেভিট দিয়েছিল। কিন্তু এখন এই ঘটনার মাধ্যমে তারা নিজেদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি এবং বেআইনি কাজ প্রকাশ করছে। তিনি বলেন, “যারা আটক হয়েছেন, তাদের অধিকাংশই মুসলমান। এ এক সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের চিত্র।”
তিনি আরও বলেন, “একজন বিদেশিরও বিচারিক অধিকার থাকে। অথচ এদের পরিবারকে জানানো হয়নি, আইনজীবীদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি, এবং চলমান মামলা থাকা অবস্থায় মানুষদের সীমান্তে ফেলে দেওয়া হচ্ছে।”
সূত্র- বিবিসি


