মার্কিন নাগরিকত্বের আশায় ভয়াবহ ও বিতর্কিত একটি কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছেন অনেক ভারতীয় অভিভাবক। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, শত শত ভারতীয় পরিবার তাদের নাবালক সন্তানদের মেক্সিকো-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিংবা কানাডা-মার্কিন সীমান্তে একা ফেলে রেখে আসছেন, যাতে ভবিষ্যতে তারা গ্রিন কার্ডের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগ পান।
২০২৪ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে ৫১৭ জন ভারতীয় নাবালককে সঙ্গীহীন অবস্থায় আটক করা হয়। ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ ৭৩০ জন। এসব শিশুর মধ্যে অনেকের বয়স মাত্র ছয় থেকে সতেরো বছরের মধ্যে। তাদের পকেটে বা হাতে থাকে একটি ছোট কাগজ, যাতে বাবা-মায়ের নাম ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কোনো আত্মীয়ের ঠিকানা লেখা থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় বাবা-মা নিজেরা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে পড়েন, পরে সন্তানদের ‘মানবিক কারণে গ্রিন কার্ড’ পাওয়ার পথ হিসেবে সীমান্তে পাঠান। এসব নাবালকরা আটক হওয়ার পর মার্কিন আদালত মানবিক বিবেচনায় ৬ থেকে ৮ মাসের মধ্যে তাদের অস্থায়ীভাবে গ্রিন কার্ড দিয়ে দেয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত আত্মীয়দের মাধ্যমে দত্তক নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে শিশুদের দেখভালের জন্য বাবা-মাও গ্রিন কার্ডের আবেদন করে বসবাস বৈধ করার সুযোগ পান।
এই প্রক্রিয়াকে মার্কিন কর্মকর্তারা ‘ব্যাকডোর পারিবারিক পুনর্মিলন’ বা ‘পিছনের দরজা দিয়ে নাগরিকত্বের অপচেষ্টা’ হিসেবে অভিহিত করছেন। দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৭৭ জন ভারতীয় নাবালককে সঙ্গীহীন অবস্থায় সীমান্তে আটক করা হয়—এর মধ্যে ৫৩ জনকে ধরা হয় মেক্সিকোর দক্ষিণ সীমান্তে, আর ২২ জনকে কানাডা সীমান্ত পার হওয়ার সময়।
মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সর্বশেষ তথ্যমতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে আনুমানিক ২.২ লাখ ভারতীয় অবৈধভাবে বসবাস করছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৩৩২ জনের বেশি ভারতীয়কে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা এই প্রবণতাকে ঝুঁকিপূর্ণ ও নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ বলছেন। শিশুদের এমনভাবে ব্যবহারের ফলে মানসিক আঘাত, মানব পাচারের ঝুঁকি এবং ভবিষ্যৎ নাগরিকত্ব নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
-পার্বত্য সময়


