ইরানের পার্লামেন্ট এক ঐতিহাসিক ও সিদ্ধান্তমূলক আইন পাস করেছে- যদি যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্ররা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়, তবে তারা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা রাখবে। এই কৌশলগত জবাবটি ইরান স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, কোনো আগ্রাসন, ভৌগোলিক সীমা বা আন্তর্জাতিক সীমানার লঙ্ঘন হলে তারা উঠে বসবে প্রতিরক্ষার কাঠগড়ায়।
ইরানের প্রতিনিধি পরিষদ বলেছে, তারা যুদ্ধ চায় না; শান্তিপ্রিয় রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বাস করে কূটনৈতিক সমাধানে। তবে হঠাৎ হামলা চালালে তারা “ওই নিরাপত্তা রেখা পেরিয়ে যাবে না”। হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা ইউরোপ বা আমেরিকা যে একক স্বার্থে বঞ্চিত করতে ট্রিগার থাকবে না, বরং “বিশ্ব বাজারে আগুন ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষমতা” রাখেন ইরান। এর ফলে তেল, গ্যাস ও জ্বালানি বাজারে শোরগোল রিশিক করে দিতে পারে যা বিশ্বব্যাপী প্রভাব ফেলবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন—যদি প্রণালী বন্ধ হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো করুণ সঙ্কটে পড়বে। কারণ এখনও প্রণালীর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ২০% তেল রপ্তানি হয়। জ্বালানি চাহিদা পূরণে অন্য কোনো বিকল্প পথ বর্তমানে নেই। এতে সরবরাহ সংকট, ফলস্বরূপ মূল্যস্ফীতি, শিপিং খরচ ও অন্য দুর্ভোগ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়বে তাদের দেশে।
তেহরান জানিয়ে দিয়েছে, এই আইন শুধুমাত্র ‘প্রতিরক্ষা কৌশল’ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে, শান্তির পথে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু তারা ক্ষেপণাস্ত্রে পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা করলে ‘নিশ্ছিদ্র প্রতিক্রিয়া’ হবে।


