এই হামলায় তাদের বিদ্যুৎ ও স্টিম উৎপাদন ইউনিট সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে, ফলে রিফাইনারির সব কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে তারা।  (হ্যাঙ্গার)
অবশেষে তীব্র আগ্রাসনের জবাব দিতে শুরু করেছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে আগ্রাসন চালিয়ে যাওয়া ইসরায়েল এবার টের পেয়েছে পাল্টা প্রতিরোধের কী ভয়াবহতা হতে পারে। সোমবার (১৬ জুন) রাতে হাইফা উপসাগরে ইসরায়েলের প্রধান তেল শোধনাগার বাজান রিফাইনারিতে ইরানের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তীব্র ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত হয়েছেন অন্তত ৩ জন কর্মী।
বাজান গ্রুপের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এই হামলায় তাদের বিদ্যুৎ ও স্টিম উৎপাদন ইউনিট সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে, ফলে রিফাইনারির সব কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে তারা। এই স্থাপনায় ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ নির্ভরশীল ছিল।
এ হামলার মাধ্যমে ইরান পরিষ্কার করে দিয়েছে, ইসরায়েল শুধু গাজা, লেবানন বা সিরিয়াতেই আগ্রাসন চালাবে- এই একমুখী খেলা আর চলবে না। তেল শোধনাগারের মতো কৌশলগত জায়গায় এই আঘাত ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতার গায়ে এক প্রবল আঘাত।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েলের ‘অভেদ্য প্রতিরক্ষা বলয়’ বলে যেটি এতদিন গর্ব করে প্রচার করা হতো, তা আসলে কতটা দুর্বল তা এখন প্রমাণিত। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এই বার্তা দিয়েছে- “প্রয়োজনে ঘরে ঢুকে জবাব দেওয়া সম্ভব।”
হাইফার বাজান রিফাইনারি ছিল ইসরায়েলের জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম স্তম্ভ। এখন সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধু জ্বালানি খাতে নয়, পুরো অর্থনৈতিক খাতেই অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। বৈদেশিক বিনিয়োগ, শিল্প উৎপাদন, এবং পরিবহন খাতে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দেবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আঘাত কেবল প্রতীকী নয়, এটি ইসরায়েলের ‘মেরুদণ্ডে আঘাত’। রিফাইনারি, বিদ্যুৎ ও ট্যাংক ফার্মে বিস্তৃত এই আক্রমণ ভবিষ্যতের যুদ্ধনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বাজান গ্রুপ জানিয়েছে, এই হামলায় তাদের তিনজন কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। পাশাপাশি, শোধনাগারের আশপাশে থাকা বড় তেল ট্যাংক ও বিষাক্ত বর্জ্য নির্গমনের ঝুঁকিও বেড়েছে। পরিবেশবাদীরা বলছেন, এই ধ্বংসের পর বিপুল পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে পুরো উপসাগরীয় এলাকায় প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার দীর্ঘ ইতিহাসে এ এক টার্নিং পয়েন্ট। এতদিন ইসরায়েল একতরফাভাবে আঘাত করে গেছে—আর ইরান নীরব থেকেছে। কিন্তু এবার, ইরান দেখিয়ে দিলো, তাদের প্রতিরোধ শুধু প্রতীকী নয়, তা বাস্তব, কার্যকর এবং ধ্বংসাত্মক।
তেহরান থেকে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, “আমরা প্রতিহিংসা চাই না, তবে আমাদের বিরুদ্ধে প্রতিটি আগ্রাসনের কঠিন জবাব দিতে প্রস্তুত। এই হামলা ছিল সতর্কবার্তা- পরবর্তী বার আমরা আরও গভীরে যাব।”

-পার্বত্য সময়