আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গোপনে ইরান থেকে জেট ফুয়েল আমদানি করেছে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল উত্তেজনা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত তিন দফায় এই জ্বালানি আমদানি করা হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

জাপানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়া সোমবার (৯ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, চালানগুলো মিয়ানমারের রাজধানী ইয়াঙ্গুন–এর কাছে অবস্থিত থিলাওয়া বন্দর এলাকার মিয়ান অয়েল টার্মিনালে পৌঁছায়, যা আগে পুমা এনার্জি পরিচালনা করত।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এমভি রিফ নামের একটি জাহাজ ইরাকি উৎস বলে পরিচয় দিয়ে জ্বালানি বহন করে আনে। অগভীর নদীপথে চলাচলের উপযোগী এই জাহাজটি প্রতিবার প্রায় ১৮ হাজার টন বা প্রায় ১ দশমিক ৪৬ লাখ ব্যারেল জেট ফুয়েল বহন করেছে।

মিয়ানমারের জ্বালানি খাতের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, এই মজুত ব্যবহার করে দেশটির সামরিক বাহিনী প্রায় ১২০ থেকে ১৫০ দিন পর্যন্ত বিমান অভিযান চালাতে সক্ষম।

তবে ইরান–ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের পর ইরান থেকে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন বিপাকে পড়েছে মিয়ানমারের সামরিক সরকার। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতার কারণে জ্বালানি সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটেছে।

এই পরিস্থিতিতে গত ৭ মার্চ থেকে দেশটিতে জ্বালানি রেশনিং চালু করা হয়েছে। জোড়–বিজোড় নম্বরপ্লেট অনুযায়ী যানবাহন চলাচলের নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে এবং পেট্রলের দামও বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে মিয়ানমারের সামরিক সরকার বৈদেশিক মুদ্রা সংকটে পড়তে পারে। এতে রাশিয়া থেকে অস্ত্র কেনাসহ সামরিক ব্যয় পরিচালনা কঠিন হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির চাপ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে এবং দেশটির অর্থনীতিতেও গুরুতর চাপ সৃষ্টি করবে।