মিজোরামে একটি চাঞ্চল্যকর মাদক কারবারের ঘটনায় সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি -জেএসএস (সন্তু)- এর সংশ্লিষ্টতার জোরালো অভিযোগ উঠেছে। জেলা ও দায়রা আদালতের নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত এক বছরে (২০২৪-২০২৫) এই চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে অন্তত ১১ জন চাকমা নাগরিককে 'নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস অ্যাক্ট (এনডিপিএস), ১৯৮৫'-এর অধীনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আদালতের কেস স্ট্যাটাস অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন বারুণ চাকমা, ড্যানিয়েল চাকমা, ডিপ্পু চাকমা, লোতিকা চাকমা, নুঙনাং চাকমা, সনাতন চাকমা, দিবন তং সাংগ্যা এবং সঞ্জিত চাকমা।
এর বাইরেও দুটি বিশাল মাদকের চালান আটকের তথ্য পাওয়া গেছে, যা এই চক্রের ভয়াবহতা প্রমাণ করে। চলতি বছরের ১৯ জুন সপ্না চাকমা ও পুন্যসুর চাকমাকে ১০.৪৩ কোটি টাকা মূল্যের মাদকসহ আটক করা হয়। এরপর ২১ আগস্ট শান্তি জিবন চাকমা ও বৃষধন চাকমাকে ১.২ কোটি টাকার মাদকসহ আটক করা হয়।
যদিও এই চারটি হাই-প্রোফাইল গ্রেপ্তারের মামলার বিবরণ এখনো আদালতের কেস স্ট্যাটাসে প্রদর্শিত হয়নি।
স্থানীয় পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বেশিরভাগই নিজেদের ‘কুরিয়ার’ বা বাহক বলে দাবি করেছেন এবং মূল মাদক মালিক বা চক্রের নিয়ন্ত্রকদের নাম তারা জানেন না।
আইজল পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির সীমান্ত এলাকায় জব্দ হওয়া মাদকের চালানের পেছনে জেএসএস'র একটি বহুস্তর বিশিষ্ট নেটওয়ার্ক কাজ করছে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, প্রতিটি মামলার তদন্তেই শেষ পর্যন্ত পিসিজেএসএস নেতৃবৃন্দের সংশ্লিষ্টতা- বিশেষ করে সন্তু লারমার পরিবার ও ঘনিষ্ঠ মহলের যোগসাজশের বিষয়টি সরাসরি আলোচনায় আসছে।
অভিযোগ রয়েছে, জেএসএস শুধু মাদক নয়, গরু, কসমেটিকস, বার্মিজ সিগারেট এবং অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন পণ্যের চোরাচালানেও ব্যাপকভাবে জড়িত। মাদক পাচারের এই বিশাল অর্থের ওপর নির্ভরশীল নেটওয়ার্কটি স্থানীয় সমাজে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, মিজোরাম ও ত্রিপুরায় অবস্থানরত জেএসএস নেতাদের এই অপরাধমূলক তৎপরতা এখনই নিয়ন্ত্রণে না আনা গেলে, সীমান্ত এলাকায় আরও বড় ধরণের অপরাধ চক্র গড়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।


